সাভারের আশুলিয়ায় পাওনা টাকা ফেরত না দেয়ায় এক বৃদ্ধকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক যুবকের বিরুদ্ধে। নিহত ওই বৃদ্ধের নাম জয়নাল আবেদিন (৬০)। এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত যুবক রুবেল (২৫) পলাতক রয়েছে।
শুক্রবার (২ জুলাই) ভোররাতে আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকার আব্দুল লতিফ ভান্ডারির ভাড়া বাড়ি থেকে নিহতের মরদেহটি পুলিশ উদ্ধার করে। এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর কোন এক সময় হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে। এঘটনায় নিহতের ছেলে আবু তালেব বাদি হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
নিহত জয়নাল আবেদিন রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার ষাটভিটা এলাকার মৃত বাউরা মোনছেরের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকার আব্দুল লতিফ ভান্ডারির ভাড়া বাড়িতে থেকে অটোরিকশা চালাতেন।
নিহতের ছেলে সাইফুদ্দিন জানায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার দুপুরের খাবার খেয়ে তার বাবা রিক্সা নিয়ে বের হন। রাত অনেক হলেও বাসায় না ফেরায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে পাশের বাসার রুবেলের কক্ষটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখে তাদের সন্দেহ হয়। পরে ওই বাসার ম্যানেজারের মাধ্যমে রুবেলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে রুবেল জানায়, বৃদ্ধ জয়নাল আবেদিন তার ঘরে ঘুমাচ্ছেন। কিন্তু দরজা তালাবদ্ধ থাকায় ঘরের জানালা দিয়ে দেখা যায় খাটের নীচে জয়নাল আবেদীনের লাশ পড়ে আছে। পরে পুলিশ এসে তার লাশটি উদ্ধার করে।
আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাসিব সিকদার বলেন, খবর পেয়ে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহটি ময়না তদন্তের জন্য ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তবে লিখিত অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মিলন ফকির বলেন, নিহত জয়নাল আবেদীন পলাতক রুবেলের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ধারে নিয়েছিলো। এই টাকা ফেরত চাইলে টালবাহানা শুরু করে জয়নাল। এছাড়া টাকার জন্য বেশি চাপ দিলে গাঁজা বিক্রির কথা ফাঁস করে দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিতো জয়নাল। মূলত তারা দুজনই গাঁজা সেবনের পাশাপাশি বিক্রি করতো বলে তিনি জানান।
ইত্তেফাক/এমএএম