ধর্ষক ও মাতবররা পলাতক
ধামরাই (ঢাকা) সংবাদদাতা
ধামরাইয়ের রৌহাটেক এলাকায় ধর্ষণের বিচার না পেয়ে তিন সন্তানের জননী এক বিধবা অবশেষে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। জানা গেছে, রৌহারটেক জামে মসজিদের ইমাম আশরাফুল ইসলাম ঐ বিধবা নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত প্রায় দেড় বছর যাবত্ ধর্ষণ করে আসছিলেন। এ ঘটনায় এলাকার মাতবররা এক পর্যায়ে ধর্ষককে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ঐ নারীর লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ধর্ষক ইমামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলায়।
এলাকাবাসী ও অন্যান্য সূত্রে জানা যায়, ঐ নারী ছাড়াও এরই মধ্যে আশরাফুল অন্য এক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে। যা প্রথম নারীর কাছে ধরা পড়ে। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তিনি গত বুধবার দুপুরে মসজিদের ভিতরে গিয়ে মুসল্লিদের উপস্থিতিতে তাকে বিয়ে করতে ইমামকে চাপ দেন। ইমাম তাকে সবার সামনে মারধর করে মসজিদ থেকে বের করে দেন। পরে ঐ নারী সূয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান সোহরাবের কাছে ধর্ষণের বিচার চান।
চেয়ারম্যান তাকে থানায় অভিযোগ দিতে বলেন। এ ঘটনায় বুধবার রাতেই এলাকার মাতবররা সালিশে বসেন। মসজিদ কমিটি ধর্ষক ইমাম আশরাফুল ইসলামকে থানায় দেওয়ার জন্য সূয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার রহিম মিয়ার কাছে হস্তান্তর করে। কিন্তু ধর্ষকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ খেয়ে মসজিদ কমিটির জাহিদ হোসেন, দলিল লেখক শরীফ হোসেন, মাতবর ইউসুফ আলী, পাগলা মিয়াসহ কয়েক জন দফাদারের কাছ থেকে ধর্ষক ইমামকে ছিনিয়ে নিয়ে তাকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন।
ধর্ষক পালিয়ে গেছে এ খবর জানার পর বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ঐ বিধবা নারী বিষপানে আত্মহত্যা করেন। এলাকার মাতবরা পুলিশকে না জানিয়ে গোপনে তড়িঘড়ি করে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে খবর দিলে তারা ঐ নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকায় পাঠায়। এ ঘটনার পর ইমাম আশরাফুল ইসলাম ও স্থানীয় মাতবররা পলাতক।