সিরাজগঞ্জে নতুন নৌকা তৈরির ধুম

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

বর্ষার আগমনে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে ও দেশের সবচেয়ে বড় বিল চলনবিলে আসছে বন্যার পানি। এখনো পানি নদী ও বিলে থাকলেও বন্যা মোকাবিলার জন্য যমুনা ও বিলাঞ্চলের মানুষ  নৌকা তৈরি এবং মেরামতের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। প্রতি বছরই এই সময় নদী পাড়ের মানুষেরা কেউ নৌকা তৈরি আবার কেউ বা মেরামত করেন। আর এসব ছোট ছোট নৌকা বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন হাটবাজারে।

জেলার যমুনা তীরবর্তী উপজেলা কাজীপুর, বেলকুচি, চৌহালি, শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জ সদরসহ চলনবিলের অধিকাংশ এলাকাই বন্যাপ্রবণ। তাই বর্ষা মৌসুমে তলিয়ে যায় এসব এলাকার অধিকাংশ রাস্তা। এ সময় চলাচলের একমাত্র মাধ্যম নৌকা, ডিঙি বা তালের ডিঙি। তাছাড়া যমুনা ও চলনবিলের মাছ শিকারের জন্য ছোট ছোট ডিঙি নৌকা ব্যবহার হয় এ সময়টাতে। তাই বন্যা মৌসুম আসার শুরু থেকেই নৌকা তৈরি ও মেরামতের ধুম পড়ে যায়। তাই এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন নৌকা তৈরির কারিগররা।

বিভিন্ন কাঠ দিয়ে ১০-১২ হাত নৌকা তৈরি করতে খরচ পড়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০ থেকে হাজার টাকা। যা ব্যবহার হয় মাছ শিকার ও অল্প মানুষের পারাপারের জন্য। এছাড়াও দুরে ভ্রমণ ও কিংবা বেশি মালামাল বহনের জন্য তৈরি করা হয় ডিজেলচালিত শ্যালোর নৌকা বা বড় নৌকা। এই ধরনের নৌকা তৈরি করতে লক্ষাধিক টাকা খরচ হয় বলে জানান কারিগররা। তাড়াশের মান্নাননগড় এলাকার নৌকা তৈরির কারিগর আব্দুল গফুর মিয়া বলেন, আমরা এ নৌকা তৈরির কাজ অনেকটাই বাণিজ্যিকভাবেই করি। গ্রাহকের কাছ থেকে কাজের অর্ডার নিয়ে কাঠ কিনে নৌকা তৈরি করে বিক্রি করি। একই উপজেলার নওগাঁ হাটের নৌকা বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন কারখানায় তৈরি করা নৌকা কিনে এনে হাটে হাটে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করি।

এছাড়াও বন্যার সময় চলনবিলে নৌকার চাহিদা প্রচুর। নৌকা ক্রেতা নাদোসৈয়দপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম জানান, বন্যায় নিচু সড়ক ডুবে যায়, তাই পরিবারের সদস্যদের পারাপারের জন্য ছোট নৌকা ২ হাজার ৬০০ টাকা দিয়ে কিনেছেন। যমুনা নদী তীরবর্তী শুভগাছা এলাকার জেলে আয়নাল হক বর্ষা মৌসুমে নদীতে মাছ শিকারের জন্য ১২ হাত লম্বা একটি নতুন নৌকা তৈরি করছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। তিনি এক সুতার মিস্ত্রিকে আড়াই হাজার টাকা চুক্তিতে নৌকাটি তৈরি করার কাজ দেন। মাত্র চার দিনে নৌকা তৈরির কাজ শেষ করেছেন তিনি।