কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশন
‘বিদ্যুত্ চলে গেলে প্ল্যাটফরমে যাত্রীদের অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। স্টেশনে বিকল্প কোনো বিদ্যুত্ সরবরাহের ব্যবস্থা নেই’
সুশীল সেনগুপ্ত, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
পূর্বাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জংশন স্টেশন কুলাউড়া। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশনটি রি-মডেলিং করা হয়। এরপর আর কোনো সংস্কারকাজ করা হয়নি। বর্তমানে স্টেশনটির চেহারা বিবর্ণ হয়ে পড়েছে।
স্টেশনটিতে ছয় মাস ধরে কোনো স্টেশন মাস্টার নেই। তিন জনের স্থলে দুই জন সহকারী স্টেশন মাস্টার স্টেশনের সার্বিক দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো টিসি (টিকিট কালেকটার) নেই। পয়েন্টস ম্যান ও পোর্টারই গেটে যাত্রীদের টিকিট সংগ্রহ করে। স্টেশনের যাত্রীদের জন্য খাওয়ার পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। প্রয়োজনে যাত্রীরা প্ল্যাটফরমের স্টল থেকে পানি কিনে পান করে। স্টেশনের প্ল্যাটফরমের বাইরে একটি নলকূপ থাকলেও যাত্রীদের পক্ষে সেখান থেকে সহজে খাওয়ার পানি সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। স্টেশন প্ল্যাটফরমে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের বসার আসন নেই বললেই চলে। স্টেশনে একটি মাত্র কমন ওয়েটিং রুম এবং একটি ভিআইপি ওয়েটিং রুম রয়েছে। ফলে ট্রেনের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীদের জন্য ছোট আয়তনের কমন ওয়েটিং রুমই একমাত্র আশ্রয়স্থল।
বিদ্যুত্ চলে গেলে প্ল্যাটফরমে যাত্রীদেরকে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। স্টেশনে বিকল্প কোনো বিদ্যুত্ সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। এ রকম সময় পাশের স্টলগুলোর ক্ষীণ আলোর ওপর ভরসা করে যাত্রীরা মালপত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। স্টেশনের প্রবেশ পথে একটি দৃষ্টিনন্দন ফুল বাগান ছিল। বর্তমানে বাগানটি দোকানিদের দখলে। স্টেশনে কর্মরত ভারপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার মহিব উদ্দিন আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করে উপরোক্ত তথ্যাদি নিশ্চিত হওয়া গেছে। রেলওয়ে জংশন স্টেশনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কমচারীদের জন্য স্টেশন ভবনের কাছে একটি হাসপাতাল রয়েছে। হাসপাতালটিতে চিকিত্সক, কর্মচারী ও ওষুধের সংকট রয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালটির দায়িত্বে থাকা ডা. আইবুর রহমান খান এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।