অক্সিজেন ব্যবস্থা নেই
বটিয়াঘাটা (খুলনা) সংবাদদাতা
বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাত শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড এক বছরেও চালু হয়নি। অক্সিজেন সিলিন্ডার ছয়টি স্থাপনের ব্যবস্থা থাকলেও এখনো সংযোগ দেওয়া হয়নি। গত ২৪ ঘণ্টায় সাত জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট আইসোলেশনে রোগী রয়েছেন ৯২ জন। এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে সাত জনের। আর করোনার শুরু থেকে ১ জুলাই মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৪৫ জন।
হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স সুনীতি রাণী জানান, সাধারণ রোগীর ওয়ার্ডের সামনে আইসোলেশন ওয়ার্ড না করার জন্য আমরা অনুরোধ করেছিলাম। বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ২৫০ শয্যার হাসপাতাল ঘোষণা করা হলেও এখানে জনবল এবং ওয়ার্ড সংকট রয়েছে। রোগীদের ওয়ার্ডের বারান্দায় শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মোট চিকিত্সক ১০ জনের স্থানে রয়েছেন সাত জন। নার্স ৩৬ জনের জায়গায় আছেন ১৪ জন। তিনি বলেন, হাসপাতালের তৃতীয় তলায় মহিলা ওয়ার্ডের সামনে করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হয়েছে। উভয় ওয়ার্ডের জন্য একটি মাত্র বাথরুম।
করোনা ওয়ার্ডে রোগী রাখার পরিবেশ আজও হয়নি। জরুরি রোগী এলে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ পর্যন্ত এখানে কোনো রোগীর চিকিত্সা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনায় সাধারণ রোগীদের পাশে আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হয়েছে। ফলে সাধারণ রোগীদের মধ্যেও করোনা সংক্রমণের শঙ্কা রয়েছে। খুলনা জেলা শহরের পাশে হওয়ায় বটিয়াঘাটায় করোনা শনাক্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে। রোগীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে অবস্থান করছে। তাদের ওয়ান লাইনে সেবা দেওয়া হয়।
উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন, আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত করার দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার আজও প্রস্তুত করতে না পারায় তাকে কোনো বিল দেওয়া হয়নি। ৩০ জুনের মধ্যে তার কাজ শেষ করার কথা ছিল। স্থানীয় বটিয়াঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোরঞ্জন মন্ডল বলেন, করোনা রোগী গ্রাম-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়ছে। হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড দ্রুত চালু করার প্রয়োজন ছিল। আইসোলেশন ওয়ার্ড আর সাধারণ রোগীর একটি মাত্র বাথরুমের ব্যবস্থা আরো খারাপ হয়েছে।