ইত্তেফাক ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে উত্তাপ বেড়েই চলেছে। এবার দিল্লিতে বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করার অভিযোগ তুলে সলিসিটর জেনারেলের পদ থেকে তুষার মেহতার অপসারণ চেয়েছে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস। গতকাল শুক্রবার তৃণমূলের তিন এমপি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে এই দাবিতে চিঠি পাঠিয়েছেন। যদিও তুষার মেহতা এ ধরনের বৈঠকের কথা অস্বীকার করেছেন।
তাদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার দিল্লিতে তুষার মেহতার বাসভবনে গিয়ে তার সঙ্গে বৈঠক করেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু। তৃণমূলের দাবি, নারদ ও সারদা মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত শুভেন্দু। কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআই এবং ইডি ঐ মামলার তদন্ত করছে। অন্যদিকে, নারদ মামলায় সিবিআইর আইনজীবী তুষার মেহতা। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তৃণমূলের প্রশ্ন, এমন একজন অভিযুক্তের সঙ্গে কীভাবে সলিসিটর জেনারেল বৈঠক করতে পারেন?
চিঠিতে রাজ্যসভার এমপি ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং সুখেন্দুশেখর রায় এবং লোকসভার এমপি মহুয়া মৈত্র লিখেছেন, নারদ-কাণ্ডে গোপন ক্যামেরা অভিযানে শুভেন্দুকে টাকা নিতে দেখা গিয়েছিল। পাশাপাশি তারা জানিয়েছেন, সারদা মামলার প্রধান অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেন সরাসরি শুভেন্দুর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।
প্রধানমন্ত্রীকে তারা লিখেছেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের পরেই কেন্দ্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আইনি কর্মকর্তা হলেন সলিসিটর জেনারেল। বর্তমান সলিসিটর জেনারেলের হাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার দায়িত্বভার রয়েছে। এর পরেই তুষার-শুভেন্দু বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে তাদের বক্তব্য, প্রভাব খাটানোর উদ্দেশ্যেই এমন বৈঠকের আয়োজন হয়েছিল বলে আশঙ্কার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিচার প্রক্রিয়ায় ‘স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা’ বজায় রাখার জন্য তুষারকে সরানো প্রয়োজন।
এদিকে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের কথা অস্বীকার করেছেন, তবে তিনি বলেছেন, বিজেপি এমএলএ পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই তার বাসভবনে গিয়েছিলেন। আমি কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করছিলাম। আলোচনা শেষে জানতে পারি এমএলএ শুভেন্দু অধিকারী চলে গেছেন। এক্ষেত্রে তার সঙ্গে আমার বৈঠকের প্রশ্নই ওঠে না। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা ও এনডিটিভির।