কোম্পানীগঞ্জে প্রতিপক্ষের হামলায় কাদের মির্জার ১০ অনুসারী গুলিবিদ্ধ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে প্রতিপক্ষের হামলায় বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার ১০ অনুসারী গুলিবিদ্ধসহ আরো ১২ জন আহত হয়েছেন। অভিযোগ মতে, স্থানীয় চরএলাহী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে এ হামলা পরিচালিত হয়। প্রসঙ্গত, চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরাম চৌধুরীর সমর্থনপুষ্ট সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারী ও চায়না গ্রুপের প্রধান।

বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হেলাল মেম্বার ও চরএলাহী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল গণির বাড়িতে এ হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটে। হামলায় আহতদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারী চরএলাহী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল গণি বলেন, ‘রাজ্জাকের নেতৃত্বে তার চায়না বাহিনীর প্রধান ও তার সহযোগী শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহীনসহ ৩০-৩৫ জনের একটি দল আমার বাড়ি ও হেলাল মেম্বারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে বন্দুক দিয়ে গুলিবর্ষণ করে। নির্বিচারে গুলির শব্দে ঘুমন্ত নারী পুরুষ ও শিশুরা দিগিবদিক ছোটাছুটি শুরু করে। এ সময় ১০ জন গুলিবিদ্ধ এবং আরো ১২ জন আহত হন। 

গুলিবিদ্ধরা হলেন—চরএলাহী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোহাম্মদ বাহার (৩০), যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন (৩০), সদস্য ও যুবলীগকর্মী সবুজ (৩০), রুবেল (২৮), ফিরোজ আলম (৩৫), ইউচুপ (২৭), ইলিয়াছ (৪০), কামাল উদ্দীন (৩৫), আব্দুর রাজ্জাক (৪০) ও নুরনবী (৪০)।

এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ  মোহাম্মদ সাইফুদ্দীন আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গুলির ঘটনায় আবদুল গণি বাদী হয়ে ৪৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। বর্তমানে র্যাব, ডিবি পুলিশ ও দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

চরএলাহী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এগুলো গণি ও তার লোকজনের সাজানো নাটক। তারা রাতে আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঐ ঘটনা চাপা দিতে তাদের বাড়িতে হামলার অভিযোগ করেছে। শান্ত পরিস্থিতিকে অশান্ত করে তুলতে তারা নিজেরা এসব ঘটনা সৃষ্টি করছে।’