শতবর্ষে পা রেখেছে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি (সিসিপি)। সে উপলক্ষ্যে একটু জাদুঘর খোলা হয়েছে। যেখানে জায়গা করে নিয়েছে পুরনো দলটির বিভিন্ন সময়কার নানা স্মৃতি। কিন্তু ১৯২১ সালে যেই উদ্দেশ্য নিয়ে এই রাজনৈতিক দলটি প্রতিষ্ঠা হয়েছে তার থেকে অনেক দূরে এসেছে তারা। প্রতিষ্ঠার সময় যারা উপস্থিত ছিলেন, তারা বর্তমান সিসিপি-কে দেখলে চিনতেই পারবে না। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে লেখা এক কলামে এমনটিই মন্তব্য করেছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রয় মিত্তার।
তিনি বলেন, সিসিপির যতো প্রপাগান্ডা আছে, তার সবই ভবিষ্যতকে লক্ষ্য করে। অথচ এখনো তারা অতীতের প্রাপ্তি নিয়ে পড়ে আছে। সেসব নিয়েই আলোচনায় ব্যস্ত। নতুন জাদুঘরে সিসিপির মাধ্যমে চীনে শান্তি ও উন্নতির যাত্রাপথের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু দলটির ভয়াবহতা সম্পর্কে সেখানে কিছুই দেখানো হয়নি। ১৯ শতকের আফিম যুদ্ধ, কিংবা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সংকটে থাকা চীনের অবস্থান সেখানে তুলে ধরা হয়নি।
দ্য গার্ডিয়ানে লেখা কলামটিতে তিনি বলেন, জাদুঘরে শুধু চীনের ঘটনাবহুল ইতিহাসই তুলে ধরা হয়েছে এমন না। মার্ক্স ও লেলিনে ক্ষমতাসীন দলটি বিশ্বাস করে সে বিষয়টিও তারা জনমনে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আসল কথা হচ্ছে চীনা দলটি মিশ্র একটি বিশ্বাসের ওপর দাড়িয়ে আছে। সেখানে তারা ব্যবসার পাশাপাশি ক্যাপিটালিস্ট বিষয়গুলোতেও প্রাধান্য দিচ্ছে।
চীনা কমিউনিস্ট পার্টি তাদের প্রাপ্তিগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে নতুন ইতিহাস রচনা করার চেষ্টা করছে। এটা সত্যি যে চীন এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত অর্থনীতি। তারা জমবায়ু সংকট মোকাবিলা ও তথ্য প্রযুক্তি শিল্পে উন্নয়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু সিসিপি তাদের ইতিহাসের বেশ কিছু আড়ালে রেখে নতুন ইতিহাস জানাতে চাচ্ছে সবাইকে। ১৯৮০ সালে চীনা অর্থনীতি নতুন এক দিগন্তের দিকে যাত্রা শুরু করে। সেই যাত্রার পথ প্রদর্শক ঝাও ঝিয়াং। তাকে নতুন করে দেখানো ইতিহাস থেকেই মুছে ফেলা হয়েছে। কারণ, ঐতিহাসিক তিয়ানানমেন স্কয়ারে ছাত্রদের আন্দোলনে তিনি সমর্থন দিয়েছিলেন। যা সিসিপির এজেন্ডা পরিপন্থী।
এছাড়া ১৯৫৮-৬২ সালে চীনে হয়েছিলো ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। যা সিপিসির শতবার্ষিকীর ইতিহাসের কোথাও উপস্থিত নেই। ওই দুর্ভিক্ষে প্রায় ২ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিলো। এখন সিসিপি ক্ষমতায় আছে। তাই তারা চাইলেই ইতিহাস নিজেদের মতো করে বানিয়ে জনগণের সামনে তুলে ধরছে। গত ১০০ বছর ধরে দলটি প্রপাগান্ডার ওপর নির্ভর করে আসছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ইতিহাসের পুনাবৃত্তি করলো তারা।
ইত্তেফাক/টিআর