ছাত্রলীগের ডাস্টবিনে ময়লা ফেলা যায়, তোলা যায় না

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও প্লাস্টিক বর্জ্যমুক্ত রাখতে ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কের পাশে ৫০টি ডাস্টবিন বসায় ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সহযোগীতায় এসব বিন বসানো হয়। ছাত্রলীগের সৌজন্যে বসানো এসব বিনে ফেলে যাওয়া ময়লা পরিস্কারের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে অধিকাংশ সময় ময়লা পঁচে দুর্গন্ধ ছড়ায়।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি চিরন্তন, মল চত্বর, স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর, টিএসসি, কলাভবন, মধুর ক্যান্টিন, ডাকসু, লাইব্রেরি, কার্জন হল, ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল, উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনার পাশে ৫০টি বিন রয়েছে। এসব বিন চারকোণার স্ট্যান্ড দিয়ে স্থায়ীভাবে আটকানো। যার ফলে বিনে ফেলে যাওয়া ময়লা পরিস্কার করার জন্য স্ট্যান্ড থেকে বিনগুলোকে আলাদা করা যায় না। ময়লা পরিস্কার করতে না পারায় ময়লা পঁচে দূর্গন্ধ ছড়ায় সবসময়।

ছাত্রলীগের সৌজন্যে দেওয়া এমন পাঁচটি বিন রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্ত্বরে। ময়লা পঁচে দুর্গন্ধ ছড়ানোর কারণে ফেলে দেওয়া হয়েছে টিএসসির পাঁচটি বিনই। এখন এসব জায়গায় শুধুমাত্র স্ট্যান্ডগুলো রয়েছে। টিএসসিতে নিয়মিত আড্ডা দিতে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জেবা আনিকা। তিনি বলেন, টিএসসির স্বপন মামার চায়ের দোকানের সামনে একটি বিন ছিলো। ওই বিন থেকে ময়লা পঁচে সবসময় দুর্গন্ধ ছড়াতো। বিনগুলো কেউ পরিস্কারও করতো না। দীর্ঘদিন বিষয়টি খেয়াল করেছিলাম। কিছুদিন পরে দেখি বিনগুলো নেই।
২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কের পাশে ৫০টি ডাস্টবিন বসায় ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

ওই শিক্ষার্থী বলেন, আমি খেয়াল করেছিলাম, বিনগুলো স্ট্যান্ড থেকে আলাদা করার কোনো উপায় ছিল না। বিনে ময়লা ফেলার পর ময়লাগুলো সেখানেই থাকতো। বিন উপচে ময়লা পড়তো সব সময়। যার কারণে পুরনো ময়লা পঁচে সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত কয়েকজন কর্মচারী জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এরকম কিছু বিন রয়েছে। এসব মিনি ডাস্টবিনে যেসব ময়লা জমে তা হাত দিয়ে ধরে ধরে তুলতে হয়। আমাদের পক্ষে যতটুকু তোলা সম্ভব আমরা ততটুকুই তুলি। আমরা চেষ্টা করে ১ থেকে দেড় ফুট ময়লা তুলতে পারি। পরের ময়লাগুলো আর তোলা সম্ভব হয় না। হাতের নাগালের বাইরের ওইসব ময়লা সেখানে রয়ে যায়। পরবর্তীতে সেগুলো পঁচে দুর্গন্ধ ছড়ায়। কর্মচারীরা জানান, বিনগুলোকে আলাদা করার ব্যবস্থা থাকলে ময়লা তুলে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো। কিন্তু বিনগুলো ইস্পাত দিয়ে আটকানো। যার কারণে এগুলো আলাদা করা যায় না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট ম্যানেজার ফাতেমা বিনতে মুস্তাফা বলেন, বিনগুলোতে কি কি সমস্যা রয়েছে আমি খোঁজ নিচ্ছি। আমরা খুব শীঘ্রই সমস্যার সমাধান করছি।  

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সুন্দর রাখা ও সবুজ রাখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্পটে ৫০টি ডাস্টবিন বসিয়েছিলাম। দীর্ঘদিন ক্যাম্পাস বন্ধ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এগুলোর ব্যবস্থাপনা করছে। এগুলো কতটুকু উপযোগী ছিলো, এর চেয়ে ভালো কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করা সম্ভব কিনা সেটি আমরা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তুলে ধরবো।

ইত্তেফাক/এসজেড