বই

সময়ের পথে পৃথিবীর পথে

সিরাজুল ইসলাম কাদির

প্রকাশক :মাতাহার হোসেন,প্যাপিরাস

প্রকাশ কাল :জানুয়ারী ২০২১

প্রচ্ছদ :সমর মজুমদার

দাম :৩০০ টাকা

এক নিবেদিত সাংবাদিকের পেশাগত জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা আর স্মৃতিচারণ এই বইয়ের মুলপ্রতিপাদ্য হলেও লেখকের সুরভিত স্মৃতিসূত্রে গাঁথা কথামালায় উঠে এসেছে সমাজের সমকালীন আর্থ রাজনৈতিক পরিবেশ পরিস্থিতির সারগর্ভ বিশ্লেষণ। শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী স্যারের মুখবন্ধ বইটির মূল্যায়নে নিঃসন্দেহে পাঠককে আলোকিত করেছে। বইয়ের নামকরণটি নেয়া হয়েছে মুখবন্ধ থেকে। মণিমুক্তার বিশাল ভান্ডার থেকে সঠিক রত্নটি বাছাই করে নামকরণ করার মুন্সিয়ানটিও নিঃসন্দেহে লেখকের প্রখর বিচক্ষণতার সাক্ষী।

বইটিতে মোটামোটি গোগ্রাসে একটানা পড়ে ফেলার মতো রসদ রয়েছে। লেখনীর ধার অমনযোগী পাঠককেও আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে যথেষ্ঠ ভারী। বইটি সর্বাংশেই রয়েছে একান্তভাবে পেশাগত জীবননিসৃত জ্ঞানলব্ধ বৈচিত্রময় অনুভবসম্ভার। চলার পথে জীবনের বাঁকে বাঁকে কুঁড়িয়ে পাওয়া বিচিত্ররূপী বহুমাত্রিক দৃশ্যপটকে সমন্মিত করে অখন্ড ভৌগলিক পরিমন্ডলে সময়ের ফ্রেমে সাজিয়েছেন লেখক। বইয়ের প্রতিটি পর্বের পাতা উল্টোতেই বদলেছে দৃশ্যপট। ওইসব দৃশ্যপটে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা লেখকের ব্যক্তি মানসের অনুভবের রাজ্যকে খুঁজে পাওয়া যায়। এখানে তার বিচরণের ধারাটি এতোই স্বচ্ছন্দ যে প্রসঙ্গ থেকে প্রসঙ্গান্তরে যেতে পাঠকের বিন্দুমাত্র ছন্দপতন হবে না।

 বইয়ের প্রথমভাগেই লেখকের ব্যক্তিজীবনের রোমাঞ্চকর তারুণ্যের এক আকস্মিক পর্বে “কমরেড সিরাজ সিকদার জিন্দাবাদ” বাহিনীর সংসপর্শে আসা, কারাবাসের মতো করুন অভিজ্ঞতা এবং তারই পাশাপাশি মুক্ত জীবনে বঙ্গবন্ধুর মতো মহীরূহসম বিশাল হূদয়ের উষ্ণ সান্নিধ্যের নির্মোহ বর্ণনা পাঠককে নিমগ্নচিত্ত করে তোলে। মুক্তিযুদ্ধ শেষে স্বাধীন দেশের সূচনা লগ্নে একটি টালমাটাল সময়ে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের স্লোগানে মেধাবান প্রগতিশীল তারুণ্যের ঝড়ো হাওয়ায় কত যে উজ্জ্বল ও প্রতিশ্রুতিশীল যুব নেতৃত্ব অন্ধকারে হারিয়ে গেল! “সময়ের পথে পৃথিবীর পথে”নামকরণের সার্থকতাই যেন মেলে বইয়ের ওই ইতিহাস পরিভ্রমণে।

পেশাগত জীবনে লেখক যে যথার্থই একজন আজীবন জ্ঞানপিপাসু আদর্শ শিক্ষার্থী ছিলেন, তা অবিকল উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টারের দায়িত্বশীল সাংবাদিক হিসেবে এবং বহু বিদেশি সাংবাদিকের সাথে লেখকের কর্মকাণ্ড ও ইন্টারেকশনে। এজন্য শ্রদ্ধেয় সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী স্যার হয়তো তার মুখবন্ধে যথার্থই লিখেছেন “সাংবাদিকের কাজটাই হলো প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থী হওয়া ।“

বলাই বাহুল্য, অর্থনীতির শিক্ষক ও অর্থনীতির বিশেষজ্ঞ রিপোর্টার হিসেবে লেখক বাংলাদেশের বহু নামী দামী অর্থনীতিবিদ ও অর্থনীতি বিশেষজ্ঞের সংসপর্শে এসেছেন। সেই সুবাদে লেখকের স্মৃতিকথায় ড. ফরাসউদ্দিন,
ড. আতিউর রহমান, ব্যাংকার লুত্ফর রহমান সরকার সহ বহু প্রবীণ রাজনীতিবিদের প্রাসঙ্গিক বর্ননাচিত্র পাওয়া যায়, যা পাঠকের নিবিষ্ট মন কেড়ে নেয়।

খোন্দকার মুহম্মদ খালেদ