বাংলার মুখ

বোস কেবিন

জাহাঙ্গীর ডালিম

 

১৯২১ সালে নৃপেন চন্দ্র বসু নারায়ণগঞ্জ শহরের ১নং ও ২নং রেলগেইটের মধ্যবর্তী ফলপট্টি এলাকায় একটি টংঘরে বোস কেবিন প্রতিষ্ঠা করেন। নৃপেন ছিলেন তত্কালীন বিক্রমপুরের (বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ জেলা) শ্রীনগর থানায় ষোলঘর গ্রামের বাসিন্দা, জীবিকার সন্ধানে বিক্রমপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ আসার পর তিনি রেঁস্তোরা ব্যবসা শুরু করেন।

প্রথমদিকে চা বিস্কুট দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও আস্তে আস্তে সেটি রেঁস্তোরার রূপ নেয়। ১৯৮৮ সালে রেঁস্তোরাটি চেম্বার রোডে স্থানান্তরিত হয়। বর্তমানে এর নাম নিউ বোস কেবিন। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় কেবিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ অঞ্চলে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে যোগদান করার জন্য আন্দোলন সংক্রান্ত বিভিন্ন চিঠি পত্র বোস কেবিনের ঠিকানায় পাঠানো হতো। এছাড়া এদেশের ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা যুদ্ধ ও নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময় স্থানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে জনপ্রিয়তা লাভ করে। অনেক বিখ্যাত লোকের সমাগম হয়েছে এই বোস কেবিনে।

ইতিহাস বিখ্যাতদের পদধূলিতে সবসময়ই মুখরিত হয়ে থাকতো বোস কেবিন। এই বোস কেবিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, মাওলানা ভাষানীর মত নেতারা সময় কাটাতেন। বোস কেবিন এবছর শতবর্ষ পালন করবে। কি অদ্ভুত স্মৃতি জড়ানো এক ইতিহাস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে নারায়ণগঞ্জের বিখ্যাত বোস কেবিন! ইতিহাসের ছোঁয়া পেতে এখনো বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা নারায়ণগঞ্জের বোস কেবিনে নিয়মিত আসেন।