জামালপুর-ময়মনসিংহ সড়ক
এস এম এ হালিম দুলাল, জামালপুর প্রতিনিধি
জামালপুর থেকে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার চেচুয়া পর্যন্ত মোট ২৮ কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ দীর্ঘ চার বছরেও শেষ হয়নি। প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনা। দিনের পর দিন মানুষ যাতায়াতের ক্ষেত্রে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
সড়ক ও জনপদ বিভাগ জামালপুর সূত্রে জানা যায়, জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই সড়কটিকে মহাসড়কে রূপান্তর করতে সরকারের বরাদ্দের পরিমাণ ৪৯৫ কোটি টাকা। কাজের মধ্যে আছে, সড়ক প্রশস্তকরণ, প্রয়োজনীয় ব্রিজ-বক্স কালভার্ট নির্মাণ, পাকাকরণসহ ভূমি অধিগ্রহণ। সড়ক ও জনপদ বিভাগ গত ২০১৭ সালের শুরুতেই এই কাজের জন্য তিন প্যাকেজে দরপত্র আহ্বান করে। তিন প্যাকেজের কাজের দায়িত্ব পান দুই জন ঠিকাদার। দরপত্র অনুযায়ী গত ২০২০ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এক বছর কাজের সময় বৃদ্ধি করে। কিন্তু এখনো কাজের অগ্রগতি তেমন দৃশ্যমান নয়। কাজের শুরুতেই ২১টি বক্স কালভার্ট নির্মাণের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত সেগুলোর নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, নান্দিনা বানার ব্রিজ থেকে শুরু করে রাণাগাছা মুদিপাড়া মোড়, মহেষপুর কালিবাড়ী থেকে কাণিল রেল গেইট সাদিক মিয়ার লিচু বাগান ও লাহিড়ীকান্দা থেকে জেলার শেষ সীমানা চড়াকাটি ব্রিজ পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা বেহাল। বিশেষ করে নান্দিনা বাজার, মহেশপুর কালীবাড়ী, লাহেড়ীকান্দা, গোপালপুর, ঘোড়াধাপ ও হরিণাকান্দা বাজার এলাকার সড়কে খানাখন্দে চলা কঠিন।
জামালপুর থেকে ময়মনসিংহের দূরত্ব ৬০ কিলোমিটার। রোগী নিয়ে পথ যেতে সময় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা। অনেক সময় রোগী পথেই প্রাণ হারায়। তাছাড়া খানাখন্দের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। এ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের সময় জানা যায়, কাজ বিলম্বিত হওয়ার পেছনে ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা একটি বড় কারণ।
এ ব্যাপারে জামালপুরের সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কে বি এম সাদ্দাম হোসেন বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু না করলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।