ছায়ানটের আয়োজনে মিতা হক স্মরণ
ইত্তেফাক রিপোর্ট
গানে কথায় অকাল প্রয়াত মিতা হককে স্মরণ করেছে ছায়ানট। গতকাল ছায়ানটের ইউটিব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজে সরাসরি অনুষ্ঠানটি দেখা গেছে। মিতা হক দেশের স্বনামধন্য শিল্পী। শুদ্ধ রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করে তিনি দেশের মানুষের সম্মান ও ভালোবাসা কুড়িয়েছেন। গতকাল এই স্মরণ অনুষ্ঠানে মিতা হককে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন তার বন্ধু, স্বজন ও গুরুজনরা। গানে গানে শ্রদ্ধা জানান শিল্পীরা। অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে মিতা হকের ধারণকৃত সংগীত প্রচার করা হয়। যা অনুষ্ঠানে যুক্ত হওয়া সবাইকে স্মৃতিকাতর করে তোলে। অনুষ্ঠানে মিতা হকের মেয়ে ফারহিন খান জয়িতা মাকে উদ্দেশ্য করে সংগীত পরিবেশন করেন।
আলোচনায় উঠে আসে বাংলাদেশের সংগীতে মিতা হকের অবদানের কথা। ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমেদ লিসার স্বাগত কথনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন ছায়ানটের সভাপতি সন্জীদা খাতুন ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সংস্কৃতিজন মফিদুল হকের আলোচনায় উঠে আসে সংস্কৃতিজন মিতার জীবন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফের কথায়ও ফুটে ওঠে মিতা হকের জীবনচিত্র। বুলবুল ইসলামের কথায় খুঁজে পাওয়া যায় সংগঠক মিতাকে। নৃত্যশিল্পী শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আলোচনায় ফুটে ওঠে নৃত্যগীতের মিতা হক। আর সংগীত শিল্পী মিতা হককে ফুটিয়ে তোলেন গবেষক আহমাদ মাযহার ও ড. ফওজিয়া মোসলেম। এ ছাড়াও তার বন্ধু ও শিক্ষার্থীদের কথায়ও ভাস্বর হয়ে ওঠে দরদী শিল্পী ও মমতাময়ী মিতা হক। তাকে নিয়ে আলোচনায় আরো যারা অংশ নেন তারা হলেন—দূর্বাদল চট্টোপাধ্যায়, নাসেহুন আমীন, অসীম দত্ত, মহুয়া মঞ্জরী সুনন্দা, এনামুল হক ওমর, সুস্মিতা আহমেদ বর্ণা প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা ‘পরিচয়’ আবৃত্তি করেন আসাদুজ্জামান নূর ও ‘নিষ্ফল কামনা’ কবিতা আবৃত্তি করেন হাসান আরিফ। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান ‘এসেছি তব দ্বারে’ গানটি গেয়ে শোনান খায়রুল আনাম শাকিল, সুমন চৌধুরী শোনান ‘তুমি যতই দহ না’ গানটি। ইফফাত আরা দেওয়ান গেয়ে শোনান ‘এসো আমার ঘরে এসো’, বুলবুল ইসলাম শোনান রবীন্দ্রসংগীত ‘তোমায় গান শোনাব’, লাইসা আহমেদ লিসা গেয়ে শোনান ‘তবু মনে রেখো’। দিজেন্দ্রলাল রায়ের গান ‘তুমি যে হে প্রাণের বঁধু’ পরিবেশন করেন শিল্পী শারমিন সাথী ময়না। অতুল প্রসাদের গান ‘ওগো নিঠুর দরদী’ গেয়ে শোনান ইলোরা আহমেদ শুক্লা। জ্যোতিরিন্দ্রনাথের গান ‘ওই যে দেখা যায় আনন্দধাম’ পরিবেশন করেন তানিয়া মান্নান। এরপর রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন শিল্পীরা।