চাঁদপুর নৌ-জোনের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, লকডাউনে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে জনগণ নদীর বিভিন্ন জায়গা দিয়ে যাতায়াত করায় ডাকাতরা সুযোগ নিচ্ছে। এর আগে যতগুলো ডাকাতি হয়েছিল সব ডাকাত আমরা ধরেছি
ভেদরগঞ্জ (শরীয়তপুর) সংবাদদাতা
লকডাউনের মধ্যে গোপনে নৌপথে ভেদরগঞ্জের শরীয়তপুর-চাঁদপুর ও মুন্সীগঞ্জগামী যাত্রীবাহী নৌকায় বেড়েছে ডাকাতির ঘটনা। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার সখিপুর থানাধীন দুর্গম চরাঞ্চল কাঁচিকাটাগামী দুটি যাত্রীবাহী ট্রলারে ও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ-সখিপুরগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রলারে ডাকাতি হয়েছে। নৌপথে ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এ রুটের যাত্রীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শরীয়তপুর-চাঁদপুর ও মুন্সীগঞ্জগামী বিভিন্ন নৌপথে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ডাকাত চক্র। স্পিডবোটযোগে অস্ত্র সজ্জিত ডাকাত দল পণ্য ও যাত্রীবাহী ট্রলারে ডাকাতি করে যাচ্ছে। ডাকাতের কবলে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জের অনেক মানুষ। একেকটা ঘটনা ঘটার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলেও মিলছে না স্থায়ী কোনো সমাধান। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া ও মতলব উত্তরের কালিপুর বাজারে নৌ-পুলিশের ফাঁড়ি থাকলেও বন্ধ হচ্ছে না নৌপথে ডাকাতির ঘটনা। পরপর দুই দিন ডাকাতির ঘটনায় ডাকাত প্রতিরোধে নৌ-পুলিশ ও প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনার কথা জানিয়েছেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম।
কাঁচিকাটাগামী দুটি যাত্রীবাহী ট্রলারে ও মুন্সীগঞ্জ-সখিপুরগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রলারে ডাকাতির সময় যাত্রীদের মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থসহ প্রায় ৮ লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয় ডাকাতরা। সখিপুর থানাধীন চরভাগা ইউনিয়নের গৌরাঙ্গবাজার লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ডাকাতির শিকার একটি যাত্রীবাহী নৌকার যাত্রীরা মূল্যবান জিনিসপত্র হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছে। নৌকাটিতে ৭০ জনের বেশি যাত্রী ছিল। তারা সবাই ঢাকা থেকে মুন্সীগঞ্জ হয়ে শরীয়তপুরে যাচ্ছিলেন। ডাকাতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ট্রলারের চালককে আটক করেছে স্থানীয়রা। পরে তাকে সখিপুর থানাপুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান হাওলাদার জানান, ডাকাতির স্থান যেহেতু চাঁদপুর এলাকার ভেতরে তাই আমরা স্থানীয় জনগণের অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রলারের চালককে আটক করে তাত্ক্ষণিক চাঁদপুরের মতলব থানায় সোপর্দ করেছি। ডাকাতির ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় চরবাসীর সহযোগিতায় নৌপথে ও চরাঞ্চলে টহল জোরদার করা হয়েছে।
চাঁদপুর নৌ-জোনের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, লকডাউনে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে জনগণ নদীর বিভিন্ন জায়গা দিয়ে যাতায়াত করায় ডাকাতরা সুযোগ নিচ্ছে। এর আগে যতগুলো ডাকাতি হয়েছিল সব ডাকাত আমরা ধরেছি। এবারও আমরা তাদের ধরতে পারব।