রামেক হাসপাতালে তীব্র অক্সিজেন সংকট

আনিসুজ্জামান, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী

করোনার প্রথম ঢেউয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়নি। দ্বিতীয় ঢেউয়ে গত মার্চ থেকে রামেক হাসপাতালে শুরু হয় অক্সিজেন চাহিদা। প্রথমে ২ হাজার লিটার অক্সিজেন প্রয়োজন হলেও রামেক হাসপাতালের বর্তমান অক্সিজেন চাহিদা ৮ হাজার লিটার। আগত রোগীদের অক্সিজেন চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, করোনার উচ্চ সংক্রমণ প্রবণ ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম শনাক্ত হয় মে মাসে। এই ভ্যারিয়েন্টের দ্রুত বিস্তার ঘটে রাজশাহী বিভাগে। জুনে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৃত্যু কমে গেলেও রাজশাহীতে বাড়তে থাকে। রামেক হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অক্সিজেনের চাহিদাও। রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ করাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলেন, যেসব রোগীর অক্সিজেন স্যাচুরেশন আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে তাদের প্রতি দেড় ঘণ্টায় এক সিলিন্ডার অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। এ হিসাবে ২৪ ঘণ্টায় মাত্র এক জন রোগীর জন্য ১৬টি অক্সিজেন সিলিন্ডার দরকার হচ্ছে। এটা বেশ ব্যয়বহুল আবার অক্সিজেন সিলিন্ডার ম্যানেজ করাও কঠিন।

তিনি আরো জানান, বর্তমানে রামেক হাসপাতালে চিকিত্সার জন্য আসা করোনা ও উপসর্গের রোগীদের ৯৯ ভাগেরই অক্সিজেন সাপোর্ট প্রয়োজন। প্রথমদিকে সিলিন্ডারের অক্সিজেন দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, সিলিন্ডারে নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ       নিশ্চিত করা নিয়ে।  উপ-পরিচালক বলেন, রোজার আগেও রামেক হাসপাতালে প্রতিদিন ২ হাজার লিটার অক্সিজেন প্রয়োজন হতো। এখন অক্সিজেন চাহিদা বেড়ে ৮ হাজার লিটার হয়েছে। এক মাস আগেও এই চাহিদা ছিল সর্বোচ্চ ৫ হাজার লিটার। আমরা প্রতিদিন জাতীয় অক্সিজেন সরবরাহ ডিপো থেকে ১০ হাজার লিটার অক্সিজেন পাচ্ছি। এছাড়া ১০ হাজার লিটার অক্সিজেন রিজার্ভ রাখা হয়েছে। কিন্তু যে হারে করোনা রোগী বাড়ছে এবং হাসপাতালে আসছে, তাতে অক্সিজেন সরবরাহের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে ভাবিয়ে তুলছে।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, রোগীদের চিকিত্সা নিশ্চিতে সব ধরনের চেষ্টাই করে যাচ্ছি। সাধারণ ওয়ার্ড খালি করে করোনা ওয়ার্ড পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হচ্ছে। কিন্তু ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপে শয্যা বাড়িয়েও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ হাসপাতালের করোনা ডেডিকেটেড শয্যা বাড়িয়ে ৪০৫টি করা হয়েছে। উক্ত শয্যার বিপরীতে শনিবার সকাল পর্যন্ত ৪৭৮ জন করোনা ও উপসর্গের রোগী চিকিত্সাধীন ছিলেন। এছাড়া আরো ২০ জন চিকিত্সাধীন আছেন আইসিইউতে।