কুমিল্লায় স্ত্রীকে নির্যাতন করে মাথা ন্যাড়া!

যৌতুক চেয়ে না পেয়ে টয়লেটের ব্রাশ দিয়ে স্ত্রীকে নির্যাতন করার পর মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছেন স্বামী। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার ফরিদা বেগম বাদী হয়ে স্বামী ও দেবরের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় গতকাল শনিবার স্বামী মো. হাসানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বারাইপুরে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, লালমাই উপজেলার বারাইপুর গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে মো. হাসানের (৪০) সঙ্গে ১৯ বছর আগে একই উপজেলার তুলাতলী গ্রামের মৃত চান মিয়ার মেয়ে ফরিদা বেগমের (৩৫) বিয়ে হয়। তাদের একটি ছেলে (১১) ও একটি মেয়ে (৫) রয়েছে। বিয়ের পর হাসান তার শ্বশুরের পরিবার থেকে একাধিক বার আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। তিনি পেশায় পোলট্রি ব্যবসায়ী।

সম্প্রতি তিনি ব্যবসার জন্য আবারও শ্বশুরবাড়ি থেকে ৫ লাখ টাকা এনে দিতে স্ত্রীর ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। যৌতুকের টাকা এনে দিতে অসম্মতি জানালে গত ১৯ জুন বিকালে স্বামী হাসান ও দেবর হোসাইন ঐ নারীকে টয়লেট পরিষ্কারের কাজে ব্যবহৃত ব্রাশ দিয়ে শারীরিক নির্যাতন শেষে মাথার চুল ন্যাড়া করে দেন। পরবর্তী সময়ে ২৪ জুন বিকালে দ্বিতীয় দফায় নির্যাতন করায় বিষয়টি জানাজানি হয়।

গত ৩০ জুন দুপুরে মৌখিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভুলইন দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একরামুল হক নিজ কার্যালয়ে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধান করতে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেন। সালিশ বৈঠকে হাসান বলেন, তিনি আর ফরিদার সঙ্গে সংসার করতে চান না। তবে ফরিদা বিষয়টি মানেননি। গত ২ জুলাই বিকালে ফরিদা বেগম লালমাই থানায় যান। প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পেয়ে ঐ দিন লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়।

নির্যাতনের শিকার ফরিদা বেগম বলেন, ভুলইন দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সালিশ বৈঠকে ২ লাখ টাকায় ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। কিন্তু শারীরিক নির্যাতন ও মাথা ন্যাড়া করার বিচার না পাওয়ায় সেই সিদ্ধান্ত মানিনি। তাই থানায় মামলা করেছি।

লালমাই থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, গৃহবধূকে নির্যাতন ও মাথা ন্যাড়া করার ঘটনায় তার স্বামীকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

ইত্তেফাক/এমআর