অমিতা সিনহা
কোনো শুকনো বস্তুর ওপর ভর করে নয়, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালির সৃষ্ট স্বচ্ছ কাচের মসৃণ তলে ভর করে নিজেদের স্বাবলম্বী করেছে দুই নারী। স্বচ্ছ কাচে রংবেরঙের গ্লাস পেইন্টিং। চোখ ধাঁধানো গ্লাস পিইন্টিংয়ের দৃষ্টিনন্দন ক্যানভাস শ্রীভূমি ছোট-বড় সবার নজর কেড়েছেন তারা। চারকোনা আকৃতির স্বচ্ছ কাচের ওপর লাল, নীল, হলুদ, বেগুনি, সবুজ, কমলা ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের গ্লাস পিইন্টিং দিয়ে চিত্র এঁকে যাচ্ছেন। তবে এক সঙ্গে নয়। যেমন একটা ফুলের পাপড়িতে দুই ধরনের রং বসানোর ক্ষেত্রে প্রথম যে রং বসানো হবে, সেই রং আগে বসিয়ে শুকিয়ে নেন। পরে অন্য একটি রং বসিয়ে একইভাবে পেইন্টিং করতে হবে। আগে সাদা কাগজে পছন্দের চিত্রটির পেনসিল দিয়ে আঁকতে হয় বলে জানান গ্লাস পিইন্টিংয়ের চিত্রশিল্পী ফাহমিনা শাহাদাত কেয়া (৩৩) ও খালেদা আক্তার (৪৬)। একেকটি গ্লাস পেইন্টিং ছবির মূল্য ২ হাজার টাকা থেকে ১০-১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।
খালেদা আক্তার বলেন, খুব অল্প বয়সে বিয়ে হয়েছিল। সেই থেকে সংসারের কাজকর্ম শেষে বাকিটা সময় ঘরে বসেই নকশিকাঁথা তৈরি করি। আমার শৈল্পিক হাতের কারুকাজের দক্ষতা দেখে স্বামীও মুগ্ধ হন। তখন তিনি নানা ধরনের হাতের কাজের প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য উত্সাহ দেন। ধীরে ধীরে আমি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নানা রকম হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণ নিই। তারপর আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠি।
তিনি আরো বলেন, আমার স্বামী অসুস্থ থাকায় পুরো সংসারের দায়িত্ব আমারই। তাই ভবিষ্যতে এই গ্লাস পিইন্টিংয়ের শিল্পকে আরো বেশি বিকশিত করার ইচ্ছে আছে।
ফাহমিনা শাহাদাত কেয়া বলেন, শৈশব থেকে চিত্র অঙ্কের প্রতি আমার প্রবল দুর্বলতা ছিল। একদিন মোবাইলে ইউটিউব দেখতে দেখতে পেয়ে যাই কীভাবে গ্লাস পেইন্টিং করতে হয়। তা দেখা মাত্রই আর এক পলকও চোখ বুজতে দেয়নি। মনোযোগ দিয়ে দেখার পর কয়েক দিনের মাথায় নিজে নিজে কয়েকটি স্বচ্ছ গ্লাস আর নানা রঙের গ্লাস পেইন্টিং তুলি, প্রকার ভেদের গ্লিটার ও জেল বাজার থেকে নিয়ে আসি। একপর্যায়ে সময়-সুযোগ বুঝে কাচের চিত্রশিল্পের প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক নিয়ে গ্লাস পেইন্টিং শুরু করি। গ্লাস পেইন্টিং দেখতে যতটুকু সহজ মনে হয়, প্রকৃতপক্ষে তা নয়। কেননা শুধু গ্লাসের ওপর চিত্র অঙ্কন করে রং বসালে হয় না। কোন চিত্রে কোথায় বিভিন্ন রং বসাতে হবে তা জানতে হবে। একসঙ্গে কাচের ওপর রং দেওয়া যায় না। নয় তো সব রং গুলিয়ে যায়। কোনো একটি রং বসানোর সঙ্গে সঙ্গে তা শুকিয়ে নিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, এই গ্লাস পেইন্টিং বিভিন্ন বাণিজ্য মেলাতে প্রদর্শন করেছি। সুনামও বেশ হয়েছে। সেই থেকেই ঘরে বসেই মাসে সাত-আটটি করে গ্লাস পেইন্টিংয়ের অর্ডার পাচ্ছি। ইচ্ছে আছে ভবিষ্যতে গ্লাস পেইন্টিং চিত্রকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়ার।