বরিশালে নারী আসামিকে যৌন নির্যাতন, প্রতিবেদন আদালতে

বরিশালের উজিরপুর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে একটি মামলায় রিমান্ডে নিয়ে এক নারী আসামিকে শারীরিক এবং যৌন নির্যাতনের ঘটনায় আদালতের নির্দেশে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রিমান্ড শেষে আদালতে সোপর্দের পর ২ জুলাই (শুক্রবার) রাত ৮টার দিকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালতে নারীকে যথাযথ চিকিত্সা প্রদান এবং তাকে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের বিষয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে শের-ই বাংলা মেডিক্যালের পরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়। শুক্রবার রাত ১০টায় ঐ নারী আসামিকে হাসপাতালে চিকিত্সা প্রদান এবং প্রতিবেদনের জন্য যাবতীয় কার্যক্রম শেষে রাত ৩টায় তড়িঘড়ি করে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ এনে আসামি নারীর আইনজীবী মজিবর রহমান গতকাল রবিবার দুপুরে ইত্তেফাককে জানান, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে পুলিশ আদালত অবমাননা করেছে। তিনি বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন এবং আগামী ৮ জুলাই আদালত চালু হলে এ বিষয়ে আদালতকে অবহিত করবেন। এদিকে রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। ডিআইজি কার্যালয়ের এক জন পুলিশ সুপার এবং জেলা পুলিশের এক জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তিন দিনের মধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনার কথা গতকাল রবিবার জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন।

আদালত সূত্র জানায়, একটি হত্যা মামলায় পুলিশের রিমান্ডের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ জুন বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উজিরপুর আমলী আদালত ঐ নারীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে গত ২ জুলাই নারীকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় তাকে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখে এর কারণ জানতে চায় আদালত। ঐ নারী আদালতের কাছে তাকে শারীরিক এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেন পুলিশের বিরুদ্ধে। আদালত একজন নারী কনস্টেবল দিয়ে তার দেহ পরীক্ষা করে শারীরিক এবং যৌন নির্যাতনের প্রাথমিক সত্যতা পান। এরপর আদালত তার যথাযথ চিকিত্সা প্রদান এবং তাকে নির্যাতনের বিষয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন শের-ই বাংলা মেডিক্যালের পরিচালককে।

নারীর ভাই বলেন, তার বোনকে থানায় রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক এবং যৌন নির্যাতন করে তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. মাইনুল। এ ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় এক জন সাবেক এমপিকে দিয়ে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। নারীর আইনজীবী জানান, বিভিন্ন স্থানে পুলিশের হেফাজতে আসামি মারা যাচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আরজি করা হয়েছিল। আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে সতর্কতার সঙ্গে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু পুলিশ তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে শারীরিক এবং স্পর্শকাতর স্থানে নির্যাতন করেছে। যা যৌন নির্যাতনের শামিল। এটা গুরুতর অন্যায়। তিনি এ ঘটনা তদন্তে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন।