সরকারের ৯ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল

চট্টগ্রামের বাঁশখালী গুনাগড়ি পাহাড়কে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনাসংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন না করায় সাবেক জেলা প্রশাসকসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ শুনানি করেন।

২০১১ সালে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সরকারি গুনাগড়ি পাহাড় কেটে স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি মাটি বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত্ করে। এতে ধ্বংসের মুখে পড়ে পাহাড়টি। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করেন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) এর পক্ষে মনজিল মোরসেদ।

২০১৮ সালের ৭ মে বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের দ্বৈত বেঞ্চ রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেয়। রায়ে বিশেষজ্ঞ মতামত নিয়ে এক বছরের মধ্যে গুনাগড়ি পাহাড়কে আগের মতো অবস্থায় ফিরিয়ে আনা এবং সরকারের কাছ থেকে এ ব্যাপারে কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাহাড়কে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে যে অর্থ খরচ হবে তা মাটি বিক্রি করার জন্য দায়ীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে আদায় করতে হবে। যে সব সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের সময় তাদের নিষ্ক্রিয়তায় পাহাড় ধ্বংস করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ রায় অনুসারে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় হাইকোর্টে আদালত অবমাননার মামলা করা হয়। এতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের বর্তমান ও আগের দায়িত্ব পালনরত ৯ জন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করে। রুলে উচ্চ আদালতের রায় অমান্য করায় কেন বিবাদীদের আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।