ফুল

দৃষ্টিনন্দন চালতা ফুল

বর্ষার আগমনে চালতা গাছের ঘন সবুজ পাতার আড়ালে সুরভি-সৌন্দর্য নিয়ে সাদা ধবধবে রঙের মনোরম ফুল ফোটে। দৃষ্টিনন্দন চালতা ফুল হালকা সুগন্ধযুক্ত। সুরভিত এই ফুলের ব্যাস ১৫ থেকে ১৮ সেন্টিমিটার। ফুলে সাদা রঙের কোমল, নরম ও মোটা পাঁচটি পাপড়ি থাকে এবং পাপড়িকে ঘিরে ফুলের বাইরের অংশে পাঁচটি সবুজ বৃতি থাকে। বৃতির রং সবুজ, মাংসল ও স্থায়ী। পাপড়ির মাঝখানে চাকতির মতো গোলাকার অংশে গর্ভদণ্ডকে ঘিরে থাকে হলুদ রঙের অসংখ্য পুংকেশর এবং গর্ভদণ্ডের মাঝখানে গর্ভকেশর অবস্থিত। গড়নের রূপ-বৈচিত্র ফুলকে আকর্ষণীয় করে তোলে। সবুজ বৃতি, পাপড়ির শুভ্রতা, মিষ্টি সুগন্ধি, হলুদ পরাগ এবং তারকাবৃতির গর্ভমুণ্ড এই ফুলটিকে দিয়েছে বাড়তি সৌন্দর্য। সবুজের মাঝে শুভ্র চালতা ফুল বেশ আকর্ষণীয়। চালতা ফুল ক্ষণস্থায়ী- ভোরবেলা ফুল ফুটলেও সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথে পাপড়ি ঝরে পড়ে। মৌমাছি কিংবা কীটপতঙ্গের মাধ্যমে পরাগায়ন ঘটে এবং নিষিক্ত ফুল পরিপূর্ণ চালতা ফল হয়। কদম-কেয়ার মতো বর্ষাকালে চালতা ফুলের নজরকাড়া রূপ অনেকের দৃষ্টি কেড়ে নেয়। এর আদি নিবাস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। বৈজ্ঞানিক নাম Dillenia indica। শ্রীলঙ্কা, চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ বেশ কিছু দেশে চালতা জন্মে। ইংরেজিতে Elephant Apple নামে পরিচিত। বিশেষত এটি ভারতবর্ষীয় উদ্ভিদ হিসেবে পরিচিত।গাছ উচ্চতায় প্রায় ২০ মিটার পর্যন্ত হয়। শাখা-প্রশাখা অবিন্যস্ত ও প্রসারিত। সবুজ পাতা খাঁজকাটা ধরনের। আমাদের দেশে গ্রামাঞ্চলে গাছটির দেখা মেলে। গাছটি থেকে শক্ত কাঠ হয়। এছাড়াও নৌকা তৈরিতে ব্যবহার করা হয় চালতার কাঠ।