এই সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, সুস্থ থাকুন

গত কয়েক দিনে দেশে করোনার সংক্রমণ কমে এসেছিল; কিন্তু আবার এর ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা যাচ্ছে। এই সময় সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি। কিন্তু আমরা ব্যক্তিজীবনে কতজন সচেতন? আমরা ক’জন গত ১৫ মাসের যুদ্ধে এখনও ঠিকভাবে মাস্ক পরি, করোনা প্রতিরোধে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি? যেখানে খুব সাধারণ কিছু পরিচ্ছন্নতা আর স্বাস্থ্যবিধি আমাদের এই মহামারি থেকে রক্ষা করতে পারে। সীমান্ত জেলায় লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। একই সঙ্গে এর বাইরের জেলাগুলোতেও করোনায় আশঙ্কাজনক হারে শনাক্ত ও মৃত্যু বেড়ে চলেছে। পুরো দেশে এখন কঠোর লকডাউন চলছে। বস্তুত করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আমাদের সার্বিক জীবনযাপনে প্রভাব ফেলেছে। সম্প্রতি ব্যাপক আলাপ-আলোচনার বিষয় হলো করোনার ‘ভারতীয় ভেরিয়েন্ট’ আর ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা কালো ছত্রাক। এ নিয়ে আছে নানা ধরনের আতঙ্ক, আর অমূলক সন্দেহও। করোনার নতুন এই ভ্যারিয়েন্ট ভারতে করোনা পরিস্থিতিকে নাজুক করে তুলেছে।

করোনা মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর সীমাবদ্ধতা বহুল আলোচিত। সঠিক স্বাস্থ্যবিধি পালনের মাধ্যমে করোনা আর ভারতীয় ধরনও প্রতিহত করা যায়। চিকিত্সাব্যবস্থাও সব ধরনের মতোই। সঠিক সময়ে শনাক্ত করা, সঠিক সময়ে অক্সিজেন সরবরাহ এবং অন্যান্য চিকিত্সা পেলে সুস্থ হওয়া সম্ভব। এমনকি গবেষকেরা এ-ও দেখেছেন যে ফাইজার ও অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা এই ধরনের বিপরীতেও কার্যকর। ভারতীয় ধরনের সঙ্গে নতুন আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা মিউকরমাইকোসিস। সম্প্রতি ভারতে এই ছত্রাক সংক্রমণের হার বেড়ে গেছে। এটি চিকিত্সাবিজ্ঞানে নতুন কিছু নয়, এই ছত্রাক আমাদের আশপাশের আর্দ্র ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ আর পচনশীল ফলমূল সবজি বা খাবারেই থাকে। এর স্পোর বাতাসে উড়ে বেড়ায় আর নাক দিয়ে আমাদের দেহে প্রবেশ করতে পারে। কখনো ত্বকের কাটা-ছেঁড়া অংশ দিয়েও শরীরে প্রবেশ করে। তবে স্বাভাবিক অবস্থায় এটি কোনো সংক্রমণ ঘটায় না। কারণ, আমাদের সাধারণ রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা একে নিষ্ক্রিয় করে দিতে সক্ষম। কিন্তু যেসব কারণে ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় ফাটল ধরে, যেমন অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, ক্যানসার বা কিডনি প্রতিস্থাপনের রোগী, কেমোথেরাপি বা উচ্চমাত্রার স্টেরয়েড পাচ্ছে এমন ব্যক্তি, এইচআইভিতে আক্রান্ত, অপুষ্টির শিকার ব্যক্তির জন্য এই ছত্রাক ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কোভিড-১৯। করোনা সংক্রমিত ব্যক্তির এমনিতেই ইমিউনিটি কমে যায়, তার ওপর দীর্ঘ রোগভোগ, স্টেরয়েডের ব্যবহার, সঙ্গে ডায়াবেটিস ও অন্যান্য জটিলতা এদের ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়। অপরিশোধিত ইন্ডাস্ট্রিয়াল অক্সিজেন ব্যবহারকেও দায়ী করা হচ্ছে। সাধারণত দেখা যায় করোনা থেকে সেরে ওঠার সময়, মানে সংক্রমণের ১২-১৮ দিনে এ ধরনের সংক্রমণ বেশি হয়। কেবল ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নয়, আরও নানা ধরনের সুযোগসন্ধানী জীবাণু করোনা হলে মাথাচাড়া দিতে পারে। যেমন, হোয়াইট ফাঙ্গাস, ইয়েলো ফিভার, ক্যানডিডা ছত্রাক-প্রস্রাবের বা কান, নাক, মুখ, দাঁতের নানা সংক্রমণ দেখা দেয় রোগীদের মধ্যে। বিশেষ করে যারা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) দীর্ঘদিন থাকেন বা দীর্ঘদিন স্টেরয়েড পান। মিউকরমাইকোসিস নাক দিয়ে প্রবেশ করলে সাইনোসাইটিসের মতো উপসর্গ, মুখ বা চোখের একপাশ ফুলে যাওয়া, সর্দি, নাক দিয়ে তরল নিঃসরণ, চোখের পাতা ফুলে যাওয়া, দৃষ্টির সমস্যা হতে পারে। ফুসফুস সংক্রমিত হলে শ্বাসকষ্ট, কফের সঙ্গে রক্ত; পাকস্থলী সংক্রমিত হলে বমি, ডায়রিয়া; মস্তিষ্ক আক্রান্ত হলে অসংলগ্ন আচরণ, মাথাব্যথা, বমি এমনকি অচেতন হতে পারে। হোয়াইট ফাঙ্গাস যকৃত্ ও কিডনিকে আক্রান্ত করতে পারে। ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণের চিকিত্সা যেমন ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদি, তেমনি এর জটিলতাও অনেক। তাই এর প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।

সবচেয়ে ভালো হচ্ছে করোনা যেন না হয় সে জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। তাই পরবর্তী ঢেউ বা আসন্ন দুর্যোগ ঠেকাতে এখনই সচেতন হতে হবে। ধারণা করা হচ্ছে, করোনা তার রূপ বদলে ফেলেছে। ইউকে, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনা তার রূপ বদল করে যে আরো বেশি সংক্রামক হয়ে উঠেছে সেটাও করণীয় আমাদের একটাই এখন। সেটা হচ্ছে—সতর্ক থাকা। স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি মানলেই করোনার সংক্রমণ কমিয়ে আনা সম্ভব। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে হলে এটা যাতে ছড়াতে না পারে তার ব্যবস্থা নিতে হবে। আর মানুষের মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়ে সংক্রমণ ঠেকানো যায়। মানুষকে সচেতন করে যদি সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা যায়, মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, হাত ধোয়া নিশ্চিত করা যায় তাহলে করোনা ছাড়াতে পারবে না। সংক্রমণ কমবে। জনসমাগম বন্ধ করতে হবে। দূরত্ব বজায় রেখে রাস্তা দিয়ে কেউ হেঁটে গেলে সমস্যা নাই। সমস্যা হলো ভিড় করলে।

স্বাস্থ্যবিধি বলতে তো সাকুল্যে দুটো কাজ। এক. মাস্ক পরতে হবে। মুখের সঙ্গে সুন্দর করে টাইট করে পরতে হবে। ঢিলেঢালা করে পরলে হবে না। দুই. হাত স্যানিটাইজ করতে হবে বা ধুতে হবে সাবান দিয়ে। এ দুটো কাজ করা কি খুব কঠিন? এখন তো মাস্কের কোনো সঙ্কট নেই। স্যানিটাইজারও আছে। তাহলে বাইরে যখন বের হচ্ছেন তখন কেন মাস্ক পরছেন না? অথবা মাস্ক নামিয়ে থুতনির নিচে রাখছেন? মাস্ক তো দেখানোর বিষয় নয়। আপনি এটা স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পরবেন আপনাকে নিরাপদ রাখার জন্য। বাইরে বের হলে নানা জিনিসে তো হাত দিতেই হয়। তাহলে সঙ্গে করে স্যানিটাইজার নিচ্ছেন না কেন? এ দুটো কাজ ঠিকঠাকভাবে করলে তো করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে না প্রায় বললেই চলে।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসসহ করোনার নানা জটিলতা ঠেকাতে করোনা ছাড়াও কো মরবিড কন্ডিশন বা সহযোগী রোগগুলোর চিকিত্সার দিকে নজর দিতে হবে। যেমন, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি বা হূদরোগের সুচিকিত্সা ও নিয়ন্ত্রণ করা। ইমিউনিটি বাড়াতে সঠিক পুষ্টি, ধূমপান বর্জন, নিয়মিত ব্যায়াম বা হাঁটা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সুশৃঙ্খল জীবনযাপনে অভ্যস্ত হন। যারা কোভিড বা অন্য রোগের কারণে স্টেরয়েড সেবন করেন, তারা বিশেষভাবে সতর্ক থাকবেন। ডায়াবেটিস ও বার্ধক্যজনিত রোগ থাকলে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।

যে কোনো ধরন প্রতিরোধে সঠিকভাবে মাস্ক পরুন, মাস্ক খুলবেন না বা গলায় ঝুলিয়ে রাখবেন না। ভিড় এড়িয়ে চলুন। অকারণে বাইরে যাবেন না। বাসি-পচা খাবার, উচ্ছিষ্ট কখনো খাবেন না। নোংরা-অপরিচ্ছন্ন জায়গায় খালি পায়ে হাঁটবেন না। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও হাইজিন বজায় রাখুন। ধুলাবালু ও বায়ুদূষণ এড়িয়ে চলুন। শরীরে কোথাও কেটে-ছিঁড়ে গেলে তা পরিষ্কার রাখুন। বদ্ধ  পরিবেশে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার হার সবচেয়ে বেশি। তাই  চেষ্টা করুন দরজা-জানালা খোলা রেখে ঘরে আলো-বাতাসের চলাচল বৃদ্ধি করতে। নিজে কিছুক্ষণ পরপর চেয়ার ছেড়ে বাইরে গিয়ে আলো-বাতাস নিন। বাড়ির মেঝে এবং অন্যান্য তল পরিষ্কার রাখার দুটি ধাপ আছে। একটি হলো ক্লিনিং বা পরিচ্ছন্ন করা, আরেকটি হলো ডিজইনফেকটিং বা জীবাণুনাশ করা। প্রথমে পানি, ডিটারজেন্ট বা ফ্লোর ক্লিনারজাতীয় উপাদান দিয়ে মেঝে, তল ইত্যাদি পরিষ্কার করতে হবে। এরপর জীবাণুনাশক উপাদান দিয়ে জীবাণুমুক্ত করুন। জীবাণুনাশক হিসেবে ব্লিচ বা ৭০ শতাংশ অ্যালকোহলের মিশ্রণ কার্যকর। সবার মুখে মাস্ক পরিধান। প্রতি পনেরো মিনিট অন্তর স্থান পরিবর্তন, কোনো ধরনের বস্তুতে হাতের স্পর্শ না লাগানো, কিংবা নিজের মুখে হাত লাগানো থেকে বিরত থাকলে করোনা আক্রান্ত হওয়ার হার অনেকাংশে কমে যায়। অর্থাত্ বাইরে গেলে এসব বিষয়ে সব সময় সচেতন থাকুন। গণজমায়েত থেকে নিজেকে সব সময় দূরে রাখুন। যে কোনো ব্যক্তি থেকে কমপক্ষে ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করুন সব সময়। নিজেকে সর্বোচ্চভাবে অন্যের থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করতে হবে। সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা মেনে চলুন। সব সময় হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। সাবানপানির ব্যবহার করার সুযোগ থাকলে আরও ভালো। বাসায় ফেরার পরপরই হাত-মুখ ধুয়ে নিন। ব্যবহূত কাপড়গুলো ধুয়ে ফেলুন। রেসপিরেটরি হাইজিন অর্থাত্ শ্বাস-প্রশ্বাসের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অবশ্যই মেনে চলবেন। সর্দি, কাশি, হাঁচি দেওয়ার সময় সতর্ক থাকুন। অন্যদের এসব করতে দেখলে দ্রুত সেখান থেকে সরে যান। যেসব জিনিস অন্যের সঙ্গে ব্যবহার করতে হয়, তা থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। যেমন পার্কের বেঞ্চ, বাস বা ট্রেনের সিট, রিকশা, অফিসের দরজা, লিফটের বোতাম, হোটেল বা রেস্তোরাঁর প্লেট গ্লাস কাপ ইত্যাদি। অফিসে নিজের বাসার খাবার গ্রহণ করুন। সম্ভব না হলে শুকনো খাবার খান। ঘরের বাইরে যত কম যাওয়া যায়, ততই ভালো। এ জন্য একটি বিশ্বস্ত বন্ধুগ্রুপ তৈরি করুন যারা একই ধরনের হাইজিন প্র্যাকটিস করেন। একাকিত্ব আপনার ইমিউনিটি কমিয়ে দেয়। তাই সুস্থ মানসিক পরিবেশ তৈরি করুন। সকালে কিংবা রাতে অর্থাত্ যখন মানুষের সমাগম কম হয়, সেসময়ে হাঁটার অভ্যাস চালু রাখুন।

মনে রাখবেন, এই ভাইরাস দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের মাঝে বেশি পরিমাণে ছড়ায়। পর্যাপ্ত পরিমাণে লেবুর শরবত, আদা-লেবু চা, গ্রিন টি, গরম দুধ কিংবা টক দই খাওয়ার অভ্যাস করুন। মাঝে মাঝে গরম পানি দিয়ে কুলকুচি করতে থাকুন। প্রচুর ফলমূল শাক-সবজি অর্থাত্ পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন। ভিটামিন সি, ডি এবং জিংকসমৃদ্ধ খাবার বেশি গ্রহণ করুন। ভিটামিন ডি’র উত্স যেমন দুগ্ধজাত পণ্য, বাদাম, সামুদ্রিক মাছ, ছোট মাছ বেশি করে খান। এগুলো আপনার ইমিউনিটিকে বুস্ট-আপ করবে। যারা অ্যাজমা, ডায়াবেটিস, হূদরোগ, কিডনি জটিলতা কিংবা অন্যান্য ক্রনিক রোগে আক্রান্ত বা বয়স্ক ব্যক্তি, তারা বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করুন। পারতপক্ষে বাসার বাইরে না যাওয়াই ভালো। করোনার আক্রমণ থেকে সেরে ওঠার যুদ্ধে অনেকেই মুখোমুখি হচ্ছেন ত্বক আর চুলের নানা সমস্যায়। চুল পড়ে যাওয়া, ত্বকের ব্রণ, অ্যালার্জি, র্যাশ, একনে (Acne), দাগ পড়ে যাওয়া এমন হাজারো সমস্যা নিয়ে আমরা ভুগছি করোনা পরবর্তী সময়ে। যারা করোনায় আক্রান্ত হননি, তারাও মহামারিজনিত দুশ্চিন্তা, বিষাদ, প্যানিক অ্যাটাক এবং বিভিন্ন মানসিক চাপের মুখে পড়ে ত্বক আর চুলের ব্যাপারে অনেক সমস্যায় পড়ছেন। বিভিন্ন ওষুধপত্র লাগানো ও গ্রহণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনই সুস্থ, রোগহীন ত্বক ও চুলের চাবিকাঠি—এমনটাই মতামত দিচ্ছেন বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞ।

জ্বরসহ যে কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিত্সকের শরণাপন্ন হন। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রথম লক্ষণ হলো জ্বর এবং শুকনো কাশি। এছাড়া থাকতে পারে শরীরের পেশীতে ব্যথা, গলা ব্যথা, স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতি না থাকা, শ্বাসকষ্ট, কখনো পেট খারাপ ও বমি বা বমি বমি ভাব। কেউ যদি নিজের মধ্যে করোনার একাধিক লক্ষণ দেখতে পান, তাহলে শুরুতেই ‘সেলফ-আইসোলেশনে’ চলে যান, অর্থাত্ নিজেকে পরিবারের বাকি সদস্যদের কাছ থেকে পুরোপুরি আলাদা করে ফেলুন। এতে পরিবার, কর্মস্থল এবং আশপাশের মানুষের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো যাবে। সম্ভব হলে আলাদা একটি ঘরে থাকুন, যেখানে প্রাতঃকর্ম এবং অন্যান্য কাজের জন্য বাইরে বের হতে না হয়। খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও ওষুধ ঘরের দরজার বাইরে রেখে যাবেন পরিবারের সদস্যরা। উপসর্গ দেখা গেলে কোভিড-১৯ ধরে নিয়েই ব্যবস্থা নিতে হবে অর্থাত্ নমুনা পরীক্ষা এবং চিকিত্সার ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারি এবং বেসরকারি উভয় খাতে নমুনা পরীক্ষা করানো যায়। ইম্যুনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এমন খাবার খান। এজন্য প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি করে খেতে হবে, স্যুপ খেতে পারেন। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাবেন। প্রয়োজনে  চিকিত্সকের পরামর্শ নিন। বিশেষজ্ঞরা সামাজিক মাধ্যমে কারো শেয়ার করা প্রেসক্রিপশন দেখে ওষুধ খেতে নিষেধ করছেন। শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে, অথবা বাড়িতেই অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। শ্বাসকষ্ট না হলে হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

কোভিড-১৯ আক্রান্ত হলে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন বেশিরভাগ মানুষ। চিকিত্সকেরা মনে করেন, এসময় রোগীর মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে এবং তাকে সাহস দিতে হবে। ইতিবাচক চিন্তা করতে সহায়ক কাজকর্ম করা এবং প্রয়োজনে মনোবিদের সাহায্য নিতে হবে। জীবনের প্রয়োজনে স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে শিথিলতা দেখানোর কোনো সুযোগ আপাতত তো নেই। তাই আসুন, সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি।

মডেল বিন্দু

ছবি তানভীর আহমেদ