‘তরুণরা শিল্পের জন্য শিল্প চর্চা করছে না, করছে জনপ্রিয়তার জন্য!’

এদেশের শক্তিমান অভিনেতা ফারুক আহমেদ। হাস্য রসাত্মাক চরিত্রেও যেমন মানুষ তার অভিনয় দেখে হাসেন, তেমনি সিরিয়াস চরিত্রেও স্তব্ধ হন দর্শক। এমন গুণী অভিনেতা কথা বলেছেন সাম্প্রতিক কাজ নিয়ে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

বর্তমান কাজ প্রসঙ্গে জানতে চাই—

‘এখানে কেউ থাকে না’, ‘গুগল ভিলেজ’, ‘হাম্বা ডটকম’সহ বেশ কয়েকটি নাটক এবং ‘আগামীকাল’ সিনেমার কাজ শেষ করলাম। এছাড়া ‘নীল ব্যারাক সমিতি’সহ আরো বেশকিছু ঈদের নাটকের কাজ হাতে রয়েছে।

বিশেষ বিবেচনায় ঈদের কিছু নাটকের শুটিংয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নির্দেশনা না মেনে অনেকেই উন্মুক্ত স্থানে শুটিং করছেন। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?

ইনডোরে তো সব কাজ করা সম্ভব না। আবার জনাকীর্ণ এলাকায় লোকেশন থাকলে বাইরেও শুটিং সম্ভব না। তাই আমার মনে হয়, দেশের এই অবস্থায় সব শুটিং বন্ধ রাখা উচিত। অন্যদিকে যদি কেউ নিয়ম মেনে শুটিং করতে চায়, তবে তাকে যেখানে মানুষজন কম সেখানে গিয়ে করা উচিত। না হলে খোলা মাঠে শুটিং দেখে তারা ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে!

দেশের প্রেক্ষাপটে চরিত্রাভিনেতাদের মূল্যায়ন কম করা হয়। সেই জায়গা থেকে ফারুক আহমেদ হয়ে ওঠা কতটা মসৃণ ছিল?

২৫ বছর ধরে থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। থিয়েটার ও টিভিতে হুমায়ুন আহমেদ, হুমায়ুন ফরিদী, নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, সেলিম আল দ্বীন, রাইসুল ইসলাম আসাদ’সহ অনেককে পেয়েছি।  তাদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা, পাশাপাশি আমার পরিশ্রম, সতাতা, একাগ্রতা ও অভিনয় দিয়ে আজকের এই অবস্থানে এসেছি।

থিয়েটারের অবস্থা দিনদিন খারাপ হওয়ার কারণ হিসেবে কী বলবেন?

এখনকার ছেলেমেয়েরা ক’দিন থিয়েটারে কাজ করেই টিভির দিকে ঝুঁকে পড়ে। নিজের চেহারা দেখিয়ে অল্প দিনেই পরিচিত হতে চায়। তরুণরা শিল্পের জন্য শিল্প চর্চা করছে না, করছে জনপ্রিয়তার জন্য! ফলে থিয়েটারে ভালো  শিল্পী কম পাওয়া যাচ্ছে। তবে শিল্প-সাহিত্য চর্চা কখনো ওপরের দিকে উঠে আসে, আবার কখনো নিচে নেমে যায়। আশা করছি শিগগিরই আবার ভালো অবস্থানে যাবো আমরা।

কাজের পরিধি বাড়ার সঙ্গে মানহীন শব্দটির নিবিড় সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এর জন্য কাকে দায়ী করবেন?

এর প্রধান কারণ বাজেট। বাজেট কম থাকার কারণে স্ক্রিপ্ট রাইটার, গল্পকারকে মূল্যায়ন করা সম্ভব হয় না। এছাড়া কম বাজেটের কারণে অল্প সময়ে কম চরিত্র ও লোকেশনে নির্মাতাকে কাজ করতে হয়। অন্যদিকে চ্যানেলের পাশাপাশি নির্মাতা বাড়ায় কাজের ক্ষেত্রেও ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এছাড়া যারা নাটক নির্মাণ করাচ্ছেন তাদের বেশিরভাগই শিল্পমনা নন।

এত নাটকের ভিড়েও জনপ্রিয়তার পাল্লা ভারি কেন হচ্ছে না?

এখনো যে ভালো নাটক হচ্ছে না, তা কিন্তু না। তবে কাজ বেশি হওয়ার কারণে ভালো কাজগুলো খারাপ কাজের আড়ালে চলে যাচ্ছে।

দু-একটি নাটক জনপ্রিয় হলেই সেটাকে কপি করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এ বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?

এটা খুবই লজ্জার একটি বিষয়। আমার মনে হয়, কিছু মানুষের যোগ্যতার অভাবে এমনটা হচ্ছে। এ ধরনের নাটক যারা  লিখছেন বা নির্মাণ করছেন তারা পড়াশোনা না করে শুধু ৫-১০টা কাজ দেখে নাটক লিখছেন এবং নির্মাণ করছেন। ফলে সেই সীমিত কাজগুলোর প্রভাব তার নাটকে থাকছে।

ভিউ র্চচার বিষয়টি নিয়ে কী বলবেন?

ভিউ কিছু ক্ষেত্রে ঠিক, আবার কিছু ক্ষেত্রে ঠিক না। এখানে নাটক ভালো-খারাপ বিষয় না, ভিউ হলেই যেহেতু নাটকের লগ্নি উঠে আসছে সেহেতু যার ভিউ হচ্ছে লগ্নকারী বা নির্মাতারা তাকে নিয়েই কাজ করতে চাইছে। তাছাড়া যাদের ভিউ আছে তারা সবাই কিন্তু খারাপ অভিনেতা না। অন্যদিকে অনেক ভালো কাজেরই ভিউ হচ্ছে না। ভিউ হয়নি বলে তো এই কাজটিকেও খারাপ বলতে পারি না।

নাটক-ওয়েব সিরিজে ‘অশ্লীলতা’ চর্চাকে অবক্ষয় নাকি সময়ের চাহিদা বলবেন?

এই চর্চা আমাদের না করাই ভালো। কারণ এখনো আমরা পারিবারিকভাবে জীবনযাপন করি। আমরা ততটা খোলামেলা এখনো হতে পারিনি। একটি নাটক কিন্তু সমাজ ও মানুষের মাঝে প্রভাব ফেলে। তারা নাটকের অনেক কিছু নিজের মাঝে ধারণ করে। তাই বিরূপ প্রভাব ফেলার মতো কিছু না করাই উচিত।

ওটিটি মাধ্যমটিকে কীভাবে দেখছেন?

এটা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য ইতিবাচক। যদি কাজে ভিন্নতা এনে ভালো গল্প এখানে তুলে ধরা হয় তো অনেক ভালো কিছুই হবে বলে আমি মনে করি। কারণ এখানে নিজের যোগ্যতা, মেধা প্রমাণের সুযোগ রয়েছে।