নিজেরা উত্পাদন করে টিকার সংকট কাটাতে চায় আফ্রিকা

আফ্রিকায় নতুন করে করোনার সংক্রমণ বাড়তে শুরু করলেও টিকাদানে গোটা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে মহাদেশটি| এবার নিজেদের কারখানায় টিকা উত্পাদন করে সংকট কাটাতে চাইছে কয়েকটি দেশ| কিন্তু সেটি কি এতটা সহজ হবে।

গোটা আফ্রিকার গায়ে লেগেছে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের ধাক্কা যা আগেরগুলোর চেয়েও মারাত্মক হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা| বিশেষ করে ভারতকে বিপদে ফেলা ডেলটা ধরন মহাদেশটিতে দ্রুত ছড়াতে শুরু করেছে| এর মধ্যে বিপদের বিষয় হলো সেখানকার জনসংখ্যার মাত্র ১ শতাংশ এখন পর্যন্ত করোনার টিকা নিতে পেরেছে, আড়াই শতাংশ পেয়েছে প্রথম ডোজ| অথচ ইউরোপের অর্ধেক মানুষই এর মধ্যে প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছে| প্রতি তিন জনের এক জন দুই ডোজই পেয়েছে|

টিকা না পাওয়ায় আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশের নেতারাই উন্নত দেশগুলোর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন| গত সপ্তাহে কাম্পালাতে আয়োজিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে উগান্ডার প্রেসিডেন্ট উওয়েরি মুসেভেনি বিষয়টিকে স্বার্থপরতা হিসেবে অভিহিত করেছেন| তবে আফ্রিকার দেশগুলোর নিজেদেরই এর সমাধান বের করার আহ্বান জানান তিনি| বলেন, ‘এটা লজ্জাজনক যে আফ্রিকা মহাদেশ ঘুমাচ্ছে এবং অন্য কেউ এসে উদ্ধার করবে সেই আশায় অপেক্ষা করছে|’

শুধু করোনা নয়, যে কোনো রোগের টিকার জন্যই আফ্রিকাকে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ বা এশিয়ার দেশগুলোর ওপর নির্ভর করতে হয়| যত টিকা প্রয়োজন হয় তাদের তার মাত্র ১ শতাংশ নিজেরা উত্পাদন করতে পারে| বর্তমানে তিউনিশিয়া, আলজেরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সেনেগালে রয়েছে টিকার কারখানা|

অবশ্য এই পরিস্থিতির বদল ঘটার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে| বেশ কয়েকটি দেশ কারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নিয়েছে| ২০৪০ সালের মধ্যে টিকার চাহিদার ৬০ শতাংশ অভ্যন্তরীণভাবে উত্পাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে আফ্রিকা ইউনিয়ন| তবে এই পরিকল্পনার পথে আফ্রিকাকে বেশ কিছু বাধা অতিক্রম করতে হবে|