আটঘরিয়ায় কোটি কোটি টাকার শুল্কমুক্ত কাঁচামাল বাজারে বিক্রির অভিযোগ

পাবনার আটঘরিয়ার একদন্ত ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের প্রান্তিক তাঁতি রমজান আলী। তাঁত চালিয়েই কোনোরকমে দিন যাপন করছেন তিনি। তার মতো প্রান্তিক তাঁতিদের জন্য শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির ব্যবস্থা আছে সরকারের। এ সুবিধা ব্যবহার করে সুতা, রং রসায়নের মতো কাঁচামাল আমদানিও করছে বিভিন্ন তাঁতি সমিতি। তবে, যাদের নাম করে এ সুবিধা নেওয়া হচ্ছে, সেই তাঁতিদের বেশির ভাগেরই এসবের কিছু জানা নেই। এ সুযোগে আমদানি করা শুল্কমুক্ত কাঁচামাল বিক্রি করে দিচ্ছে ‘সমিতি’ নামধারী এসব চক্র।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়ন ৩ নম্বর ওয়ার্ড প্রাথমিক তাঁতি সমিতির নামে ২৫ শতাংশ শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানি করার জন্য বরাদ্দকৃত কোটি কোটি টাকার কাঁচামাল কালোবাজারে বিক্রি করে আত্মসাত্ করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ উঠেছে। সমিতির সদস্য রমজান আলী জানান, তাদের সমিতির ৩১৮ জন তাঁতির ৮৫০টি তাঁতের বিপরীতে ৬ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার শুল্কমুক্ত সুতা, রং ও রাসায়নিক দ্রব্য আমদানি করা হয়েছে। অথচ সমিতির কোনো তাঁতি এ সম্পর্কে কিছুই জানে না। তিনি নিজেও মাত্র কিছুদিন আগে জানতে পেরেছেন। শিবপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে মুনছুর আলী বলেন, খোঁজ নিয়ে জানলাম, আমদানি করা কাঁচামাল এরই মধ্যে কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়েছে সমিতি। ফলে সরকারের শুল্কমুক্ত কাঁচামালের সুবিধা থেকে তাঁতিরা বঞ্চিত হচ্ছেন। অনুসন্ধানে হাতে আসা আমদানি-রপ্তানি বিভাগের অফিস আদেশ থেকে জানা গেছে, চারটি শর্তে ঐ সমিতিকে এ শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শর্তই হলো এসব কাঁচামাল শুধু সমিতির ৩১৮ জন তাঁতির ৮৫০টি তাঁতে ব্যবহার করতে হবে। কোথাও বিক্রি বা হাতবদল করা যাবে না।

পাবনা তাঁত বোর্ডের দোগাছি লিয়াজোঁ অফিসের ভারপ্রাপ্ত লিয়াজোঁ অফিসার জাকির হোসেন বলেন, ‘সরকার প্রান্তিক তাঁতিদের শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়ে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিলেও, তাঁতিদের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে একটি চক্র আমদানি প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে প্রান্তিক তাঁতিরা সুবিধা পাচ্ছেন না। আমদানি করা কাঁচামালের কিছুই পাননি তাঁতিরা। কাঁচামালের পরিবর্তে কয়েক জন তাঁতির হাতে কয়েক শ টাকা ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।