বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধির হার ধীরগতিতে বাড়ছে। করোনা সংক্রমণের কারণে ২০২০ সালে দাম তলানিতে ঠেকলেও ২০২১ সালে এসে ধীরে ধীরে তা বাড়তে শুরু করেছে। এ বছরের শেষ নাগাদ গ্যাসের চাহিদা কোভিড সংক্রমণ শুরুর আগের সময় ২০১৯ সালের চেয়ে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়বে। ২০২৪ সাল নাগাদ এ চাহিদা ৭ শতাংশ বাড়বে। এমন অবস্থায় ২০৫০ সাল নাগাদ শূন্য কার্বন নিঃসারণের যে প্রতিশ্রুতি বিশ্বনেতারা করেছিলেন তা অর্জন করা কঠিন হয়ে যাবে। তাই জীবাশ্ম জ্বালানি গ্যাসের ব্যবহার আরো বাড়ানোর জন্য শক্তিশালী নীতিগত ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করা প্রয়োজন। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (আইইএ) গ্যাস মার্কেট রিপোর্টে এ সংক্রান্ত তথ্য এবং বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল সোমবার সংস্থাটির ওয়েবসাইটে এ রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়।
কয়লা বা জ্বালানি তেলের চেয়ে প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবেশ দূষণ করে না বললেই চলে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির নতুন নতুন প্রযুক্তি আশা বাড়াচ্ছে। কম কার্বন এবং পরিচ্ছন্ন গ্যাস সরবরাহের প্রযুক্তিও বের হচ্ছে। এমতাবস্থায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি থেকে বাঁচতে ২০৫০ সাল নাগাদ শূন্য কার্বন নিঃসারণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের।
আইইএর রিপোর্ট বলছে, কয়লা ও তেলের ব্যবহার শূন্যে নামিয়ে তা গ্যাস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে প্রতিস্থাপন করার দিকে এগিয়েছে অনেক দেশ। বিশ্ববাজারে এর প্রতিফলন পড়তে শুরু করেছে। আর গ্যাসের ব্যবহার বাড়ায় বোঝা যাচ্ছে করোনা সংকট কাটিয়ে অনেক দেশের অর্থনৈতিক-বাণিজ্যিক পরিস্থিতি চাঙ্গা হচ্ছে। বিদ্যুত্ উত্পাদন, শিল্প উত্পাদন ও পরিবহন খাতে কয়লা তেলের মতো অতি দূষণকারী জ্বালানির ব্যবহার কমে গ্যাসের ব্যবহার বাড়ছে। আর ২০২০ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে এ বৃদ্ধির অর্ধেকই হবে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে।
বাংলাদেশ সরকারও ইতোমধ্যে বিদ্যুত্ মহাপরিকল্পনা নতুন করে সাজাতে শুরু করেছে। তাতে গ্যাস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বেড়েছে। এছাড়া গৃহীত ১০টি কয়লা বিদ্যুত্ প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশ থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি ক্রমান্বয়ে বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। গ্যাস শিল্প কীভাবে কার্বন নিঃসারণ কমাবে এবং শূন্য কার্বন নিঃসারণের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে তা দেখিয়েছে ইআইএর নতুন রিপোর্ট। কয়লা ও তেলের চেয়ে গ্যাসে থাকা মিথেন পোড়ানো সময় ও আর্থিক বিবেচনায় শিল্পের জন্য অপেক্ষাকৃত সহজ। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে রপ্তানিযোগ্য গ্যাস উত্পাদনে নতুন বিনিয়োগ করেছে। সামনে আরো বিনিয়োগের পূর্বাভাস রয়েছে।