গতকালের পর
মনে রাখতে হবে, শুধু লেখার কাজটি এসাইনমেন্ট নয়; স্টাডি করা, জ্ঞান অর্জন করা, তথ্য সংগ্রহ করা, তথ্য উপস্থাপনের কৌশল উদ্ভাবন করা ইত্যাদি কাজের মাধ্যমে নির্ধারিত বিষয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষা লাভ করাই মূলত এসাইনমেন্ট। লেখার কাজটি হচ্ছে এই এসাইনমেন্টের বা নির্ধারিত কর্মসমূহের সুন্দর পরিবেশনা। অর্থাত্ এসাইনমেন্ট এর জন্য স্টাডি করা হচ্ছে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা এবং সেই এসাইনমেন্ট লিখিতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে পরীক্ষার উত্তরপত্র তৈরি করা। এই দুটো কাজই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, যদি সরাসরি পরীক্ষা গ্রহণ সম্ভব না হয়, তাহলে হয়তো এই এসাইনমেন্টের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে তোমাদের পরীক্ষার ফলাফল তথা শিক্ষা মূল্যায়ন। অর্থাত্ শিক্ষা ও সনদ এ দুটোই লাভ করতে হবে এই নির্দিষ্ট কাজের বা এসাইনমেন্টের মাধ্যমে। তাই কোনোভাবেই ফাঁকি দেওয়া উচিত নয় এই কাজে। নিজের লেখাপড়ায় ফাঁকি দেওয়া মানে নিজেকেই ফাঁকি দেওয়া। বজায় রাখতে হবে শতভাগ সততা। মূল পাঠ্যবই পড়তে হবে বারবার। নোট করে নিতে হবে বিভিন্ন পয়েন্ট বা তথ্য। আয়ত্ত করে নিতে হবে গুরুত্বপূর্ণ নাম, তারিখ, সূত্র ইত্যাদি। চূড়ান্ত এসাইনমেন্ট পেপার বা উত্তরপত্র লেখার আগে দু’একবার লিখে নিতে হবে রাফ খাতায়। অবশ্যই নিজের মেধা ও মনন থেকে লিখতে হবে চূড়ান্ত এসাইনমেন্ট পেপার।
শিক্ষার্থীদের এসাইনমেন্ট কার্যক্রম চলাকালে সম্মানিত অভিভাবকগণের থাকতে হবে অত্যন্ত সজাগ ও সক্রিয়। প্রিয় সন্তানকে প্রদান করতে হবে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সরঞ্জাম। এসাইনমেন্টের মাধ্যমে সে যেন অর্জন করতে পারে প্রয়োজনীয় শিক্ষা এবং লাভ করতে পারে প্রকৃত শিক্ষাভিত্তিক সনদ। যেহেতু আপনার সন্তান ঘরে বসে অর্জন করছে শিক্ষা এবং তৈরি করছে উত্তরপত্র সেহেতু শতভাগ সততার সঙ্গে এসব করছে কিনা তা খেয়াল রাখা আপনার নৈতিক দায়িত্ব। এই এসাইনমেন্ট পেপার তৈরি করার কাজটি অনেকটা ‘ওপেন বুক এক্সাম’ এর মতো। তাই অন্য কারো প্রস্তুতকৃত এসাইনমেন্ট কপি করার মানসিকতা যেন আপনার সন্তানের তৈরি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। পর্যাপ্ত সুযোগ পাওয়ার পরও যেন অসদুপায় অবলম্বন না করে সেই শিক্ষায় শিক্ষিত করার সুযোগ কিন্তু এখনই। শিক্ষার্থীদের এসাইনমেন্ট দেওয়া, স্টাডি করার কৌশল ও রেফারেন্স বাতলে দেওয়া, সঠিকভাবে কাজটি করিয়ে নেওয়া, প্রয়োজনে মানোন্নয়ন করিয়ে নেওয়া, স্টাডি পেপার মূল্যায়ন করা ইত্যাদি যাবতীয় কাজ যেহেতু শিক্ষক করে থাকেন সেহেতু শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের দায়িত্ব ও কর্তব্য সর্বাধিক। ঘরবন্দী শিক্ষার্থীদের মনোবল চাঙ্গা করা, সুস্থ থাকার ব্যাপারে পরামর্শ প্রদান করা, প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলা করার সাহস ও কৌশল প্রদান করা, বইপড়া ও স্টাডি করার ব্যাপারে উত্সাহিত করা, এসাইনমেন্ট পেপার তৈরি করার ব্যাপারে গাইড করা, সততা ধরে রাখার মত নৈতিক শিক্ষা প্রদান করা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব-কর্তব্য সঠিকভাবে সম্পাদনের মাধ্যমে একজন শিক্ষক নিশ্চিত করতে পারেন তাঁর শিক্ষার্থীর সঠিক শিক্ষা তথা ‘সুস্থ দেহে সুস্থ মন’। এসাইনমেন্ট পেপার তথা সম্ভাব্য পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণের থাকতে হবে অত্যন্ত সতর্ক ও নিরপেক্ষ। মনোযোগ দিয়ে দেখতে হবে প্রতিটি এসাইনমেন্ট পেপার। খেয়াল করতে হবে শিক্ষার্থীর নিজস্ব মেধা ও মনন থেকে লিখেছে, নাকি অন্য কারো প্রস্তুতকৃত এসাইনমেন্ট কপি করে দিয়েছে! সামান্য বাড়তি কষ্ট হলেও শিক্ষার্থীদের করিয়ে নিতে হবে প্রয়োজনীয় মানোন্নয়ন। একজন শিক্ষকের একটু অবহেলা, অলসতা ও পক্ষপাতিত্বের কারণে অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে অনেক শিক্ষার্থীর!
বর্তমান করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রশাসনের সহযোগিতায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যৌথ প্রচেষ্টায় এসাইনমেন্টসহ বিভিন্ন বিকল্প উপায়ে যথাসম্ভব এগিয়ে নিতে হবে আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম। এজন্য সবাইকে হতে হবে অত্যন্ত আন্তরিক।