আমাদের দেশে ৬০ বছরের বেশি বয়সের ব্যক্তিকে প্রবীণ হিসাবে ধরা হয়। যাদের অধিকাংশ শেষ বয়সে এসে হয়ে যান একা। দু’বেলা দু’মুঠো খাওয়ার জন্য হয় মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়, নয়তো না খেয়েই কেটে যায় দিন। আমাদের সমাজে এমনও কিছু হূদয়বান মানুষ আছেন যারা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করে যাচ্ছেন এই অসহায় অবহেলিত মানুষের কল্যাণে কিছু করার জন্য। এমনই একজন উদ্যোক্তা আব্দুল্লাহ আল যোবায়ের। পড়াশোনা করেছেন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে। অসহায় প্রবীণদের জীবন মানোন্নয়নের জন্য যিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘প্যারেন্টস অ্যাজিং ফাউন্ডেশন’। সংগঠনটির শুরুর গল্পটা একটু ভিন্ন। আমাদের সমাজে অবহেলিত প্রবীণদের সংখ্যা নেহাত কম নয়। যা দেশের প্রবীণ নিবাসগুলোতে গেলেই অনুধাবন করা যায়। সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করার চিন্তা যখন মাথায় আসে তখন বিষয়টা কাছের বন্ধুদের জানালেও তাদের থেকে সহায়তা পাননি যোবায়ের, বরং তাকে নিরুত্সাহিত করা হয়। তবুও যোবায়ের স্বপ্ন থেমে থাকেনি। ফেসবুকের অপরিচিত বন্ধুদের সহায়তায় ২০১৬ সালের ২৫ জুন রাজধানীর পান্থপথে ‘প্রবীণদের সাথে নবীনদের ইফতার’ আয়োজন করার মধ্যদিয়ে যাত্রা শুরু হয়। যেখানে অংশগ্রহণ করেন প্রায় অর্ধশতাধিক অবহেলিত প্রবীণ। সেই থেকেই জন্ম নেয় একদল স্বপ্নবাজ তারুণ্যের সেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘প্যারেন্টস অ্যাজিং ফাউন্ডেশন’। বর্তমানে সংগঠনটিতে দেশের ২১টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ২৭টি জেলা মিলে তিন হাজারের অধিক সদস্য রয়েছে। দেশের অবহেলিত সকল প্রবীণদের জন্য একাধিক প্রকল্প পরিচালনার মাধ্যমে কাজ করছে সংগঠনটি।
হারিয়ে যাওয়া প্রবীণ অথবা বৃদ্ধাশ্রম থেকে যারা নিজ বাড়িতে যেতে চায়, যারা পরিবারের অবহেলার শিকার হয়ে পথে পথে দিনযাপন করছে তাদেরকে আইনি সহায়তার মাধ্যমে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয় ‘ব্যাক টু হোম প্রজেক্ট’। এখন পর্যন্ত এই প্রজেক্টে ৭ জনকে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে অসহায় প্রবীণদের আত্মকর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘উদাহরণ’ নামক আরেকটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে তারা। দেশের তরুণদের পাশাপাশি প্রবীণদেরকেও ডিজিটাল বাংলাদেশ’র সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে কাজ করে তাদের ‘টেকনোলজি ফর অল’ প্রকল্প। এছাড়াও নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ইউএনডিপি, সিআরআই এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত পুরো বাংলাদেশে চলমান ক্যাম্পেইনেও মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে প্যারেন্টস অ্যাজিং ফাউন্ডেশনের নারী দল। গত বছরের করোনার শুরু থেকেই প্যারেন্টস’র নিবেদিত দল ‘ব্লু আর্মি’ অসহায় খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ায়। করোনাকালে তাদের কার্যক্রম চলে ৪টি জেলায়; যেখানে বিভিন্নভাবে (ত্রাণ, মাস্ক, স্যানিটাইজার, সাবান ইত্যাদি) তারা প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার জনকে সহযোগিতা করেন।
করোনার এই সময়ে অর্ধশতাধিক করোনা রোগীকে প্লাজমা ব্যবস্থা করে দিতেও সক্ষম হন তারা।
এছাড়াও প্রতিবছর ৪টি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, শীতবস্ত্র বিতরণ, বৃদ্ধাশ্রমে যাওয়াসহ বছরের বিভিন্ন দিবসগুলোতে প্রবীণদের নিয়ে নানানরকম আয়োজন করে থাকে সংগঠনটি। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সংগঠনটিকে ২০১৭ সালে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড এবং ইয়ুথ বাংলা বেস্ট অর্গানাইজেশন সম্মাননাসহ ‘আমি ঠিক দেশ ঠিক সম্মাননা’য় ভূষিত করা হয়।