ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোরবানির পশু নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারিরা

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন খামারে চলছে গরু মোটাতাজাকরণের কাজ। খৈল, ভুসি, ঘাস, খড়, বন, লালিসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক খাবার দিয়ে পশুদের হূষ্টপুষ্ট করা হচ্ছে। খামারিরা জানান, গতবারও করোনার কারণে তাদের ব্যবসা ভালো যায়নি। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবারও তারা খামারগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক কোরবানির পশু রেখেছেন। তবে আকস্মিক লকডাউন দেওয়ায় তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এদিকে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু প্রবেশ করলে পশুর ন্যায্যমূল্য থেকে তারা বঞ্চিত হবে বলেও জানিয়েছেন। সারা বছর লাভের আশায় খামারে কাজ করলেও সঠিক সময়ে কোরবানির পশু বিক্রি করতে না পারলে অনেক খামার বন্ধ হয়ে যাবে বলে মনে করছে খামারিরা।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, চাহিদার তুলনায় কোরবানিযোগ্য অতিরিক্ত পশু রয়েছে জেলায়। তালিকাভুক্ত ১২ হাজার ৩৭০টি খামার ছাড়াও অনেকেই পারিবারিকভাবেও কোরবানির পশু পালন করছেন। শেষ পর্যন্ত করোনার পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলে হাটবাজারের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

এগ্রো ফার্মের শ্রমিক আলামিনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, আমাদের খামারে বিভিন্ন জাতের প্রায় ৩০০ গরু রয়েছে। সর্বনিম্ন দেড় লাখ থেকে ৬ লাখ টাকারও গরু রয়েছে। তবে এবার দুশ্চিন্তায় আছি, লকডাউন তাই গরুর হাট না-ও বসতে পারে। এসব গরু যথাসময়ে বিক্রি না করতে না পারলে মালিককে লোকসান গুনতে হবে।

খামার মালিক মো. নাসির মিয়া বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমার খামারে গরুর পরিচর্যা করা হচ্ছে। মোটাতাজাকরণে কোনো প্রকার ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। তবে এবার বাজারজাত নিয়ে উত্কণ্ঠায় আছি, লকডাউনে গরুর হাট না বসলে আর্থিক সংকটে পড়ে যাব।’

বেশ কয়েক জন খামার মালিক বলেন, ‘অনলাইনে গরু বেচাকেনার পাশাপাশি খোলা বাজারে বিক্রি করতে পারলেও ভালো হতো। সহজে আমাদের ক্ষতিগুলো পুষিয়ে নিতে পারতাম।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ বি এম সাইফুজ্জামান বলেন, ‘অনলাইনে পশু কেনাবেচার জন্য প্রতিটি উপজেলায় ফেসবুক পেইজ খোলা হয়েছে। এতে খামারিদের যাবতীয় পশুর তথ্য আপলোড করা হচ্ছে। অনলাইনে পছন্দের পর ক্রেতারা খামারে এসে দেখেশুনে তার কোরবানির পছন্দের পশুটি কিনতে পারবেন।’ এছাড়া কোরবানির পশু নিয়ে খামারিদের দুশ্চিন্তার কারণ নেই বলেও তিনি জানান।