রাজশাহীতে টিসিবির পণ্যের জন্য উপচে পড়া ভিড়

রাজশাহীতে খোলা ট্রাকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য বিক্রিতে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হচ্ছে। গত সোমবার নগরীর আটটি পয়েন্টে চিনি, মসুর ডাল ও বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি করা হয়। টিসিবির ট্রাক আসার খবর পেয়ে আগে থেকেই নির্ধারিত পয়েন্টে হাজারো মানুষ ভিড় জমায়।  গতকাল মঙ্গলবার সাহেববাজার, রাণীবাজার, লক্ষ্মীপুর, ভদ্রা, শহিদ কামারুজ্জামান চত্বরসহ পয়েকটি পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। প্রতিটি পয়েন্টেই হাজারো ক্রেতা, বিশেষ করে নারীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ করার মতো। তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে পুলিশের পাহারাও বসানো হয়েছে। ক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। বাড়তি ভিড়ের কারণে কঠোর লকডাউনেও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হচ্ছে। পুলিশ মাইকিং করলেও ক্রেতারা গাদাগাদি করে পণ্য কিনছে। কেউ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখছে না। বিপুলসংখ্যক মানুষ আগের দিন সোমবারের মতোই ঠাসাঠাসি ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনছে। এ সময় অনেকের মুখে থাকছে না মাস্ক। বলার পর মাস্ক পরলেও সামাজিক দূরত্বে সমস্যা হচ্ছেই। সংশ্লিষ্ট ডিলারের কর্মচারীরা বলেন, সামাজিক দূরত্ব মেনে পণ্য নিতে বারবার বলা হচ্ছে। এমনকি পুলিশও হ্যান্ডমাইকে সবাইকে সামাজিক দূরত্ব মানতে বলছে, কিন্তু কেউ তা মানছে না। বরং নিষেধ করলে অনেক ক্রেতা উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছে। এ সময় পুলিশ কয়েক জনকে সেখান থেকে বের করে দেয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাজারে একই পণ্যের দাম অনেক বেশি। বিশেষ করে সয়াবিন লিটারে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। আমদানি করা মসুর ডাল বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। আর বাজারে চিনির কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। এ কারণে স্বল্প আয়ের মানুষ টিসিবির পণ্য কিনতে রীতিমতো প্রতিযোগিতায় নেমে যাচ্ছে।

টিসিবি রাজশাহীর গুদাম কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, রাজশাহী মহানগরের আটটি পয়েন্টে সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির চিনি, সয়াবিন তেল ও মসুর ডাল বিক্রি করা হয়েছে। এক জন ডিলার প্রতিদিন ২ হাজার কেজি পণ্য পাচ্ছেন। এর মধ্যে চিনি ৬০০ কেজি, তেল ১ হাজার লিটার ও মসুর ডাল থাকছে ৪০০ কেজি। প্রতিটি পয়েন্টে স্বাস্থ্যবিধি মেনে টিসিবির পণ্য বিক্রি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সবাই টিসিবির খোলা ট্রাক থেকে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১০০ টাকা, প্রতি কেজি চিনি ৫৫ টাকা ও প্রতি কেজি মসুর ডাল ৫৫ টাকা কেজি দামে কিনতে পারবে। এক জন ক্রেতা সর্বোচ্চ চার কেজি চিনি, দুই কেজি মসুর ডাল ও চার লিটার সয়াবিন তেল কিনতে পারবে। চলমান ‘কঠোর লকডাউনে’ দোকানপাট বন্ধ থাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের সুবিধার্থে ঈদুল আজহার ছুটি ছাড়া সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রির এই কার্যক্রম আগামী ২৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (সদর) গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, মঙ্গলবার অনেকটাই শৃঙ্খলার সঙ্গে টিসিবির পণ্য বিক্রি হয়েছে। আশা করি আর কোথাও বিশৃঙ্খলা হবে না, বিষয়টি পুলিশের পক্ষ থেকে গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। টিসিবি পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের কারণে যাতে করোনা সংক্রমণের হার না বাড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখা  হচ্ছে।