যদি হেরে যায়, তাহলে আর কোপায় দেখা যাবে না প্রিয় দল ব্রাজিলকে। ঘুম ছেড়ে উঠে টিভির পর্দায় চোখ রেখেছিলেন অনেকেই। নেইমার জাদুতে ব্রাজিল জিতেছে, সঙে সাম্বা ডান্স দেখার সুযোগও হয়েছে। ব্রাজিল ১-০ গোলে পেরুকে হারিয়ে কোপা আমেরিকার ফাইনালে উঠেছে।
আজ সকালে আর্জেন্টিনা-কলম্বিয়া দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ী দলের বিপক্ষে ব্রাজিল ফাইনাল খেলবে মারাকানায়, ১০ জুলাই।
গতকাল ব্রাজিলের সময় রাতে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ব্রাজিল ফরোয়ার্ড নেইমার পরিষ্কার বলে দিয়েছেন তিনি ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে চান। খেলা শেষে মাঠে সংবাদমাধ্যম নেইমারের সাক্ষাত্কারে প্রশ্ন ছিল ফাইনালে কাকে চাও। নেমইমার বলে দিয়েছেন আর্জেন্টিনাকে চাই। ওখানে আমার বন্ধু আছে।
বন্ধুর নাম না বললেও বুঝা যায় মেসির কথাই বলছেন নেইমার। কারণ নেইমার এবং মেসি একই সঙ্গে বার্সেলোনায় দীর্ঘদিন খেলেছেন। সেই বন্ধুত্বের সূত্র ধরেই আর্জেন্টিনাকে চাইছেন নেইমার। তবে নেইমার বলে দিয়েছেন, ‘আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলে ব্রাজিলই জিতবে।’নেইমার চাইছেন কোপার ফাইনালটা যেন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার মধ্যে হয়। যেমনটি চাইছেন ফুটবল দর্শকরাও। বিশেষ করে বাংলাদেশের ফুটবল প্রিয় মানুষরাও ব্রাজিল আর্জেন্টিনার ফাইনাল দেখার অপেক্ষায় আছেন।
এবার নিয়ে কোপার টুর্নামেন্টে ২১ বার ফাইনাল খেলছে ব্রাজিল। আগের ২০ বারের ফাইনালের মঞ্চ হতে ৯টা ট্রফি জয় করেছিল ব্রাজিল। গতকাল বাংলাদেশ সময় ভোরে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিওর নিলটন স্যান্টোস স্টেডিয়ামে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন পাকুয়েতা। এই ফরোয়ার্ড গোল করলেও পুরো গোলের কৃতিত্ব নেইমারের।
খেলার শুরু হতেই সেলেসাওরা পেরুর ওপর আক্রমণের ঝড় তুলেছিল। গোল পেয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুুযোগও ছিল। নেইমারের অবিশ্বাস্য শট ঠিকানা পায়নি। পেরুর রক্ষণভাগে যিন সিল করে দেওয়া ছিল। কোনো ভাবেই ব্রাজিলকে গোল কতে দেবে না এমন ভাবেই রক্ষণের জাল বিছিয়ে ছিল পেরু। নেইমার, ক্যাসিমিরো, রিচারলিসন, পাকুয়েতার সব চেষ্টাই বৃথা যাচ্ছিল। নেইমার গোলকিপারকে কাটিয়ে ফাঁকায় বল তুলে দিয়েছিলেন। ৩৪ মিনিটে ব্রাজিল গোলের দেখা পায়। মাঝ মাঠ হতে ঠেলে দেওয়া বলটা নিয়ে নেইমার দ্রুতগতিতে ঢুকে গিয়ে তিন ফুটবলারকে একে একে তিনবার ডজ দিয়ে নিখুঁত বলটা পাকুয়েতার পায়ে জমা দেন। পাকুয়েতা গোল করেন ১-০। সঙ্গে সঙ্গে নেইমারদের সাম্বা ডান্স। গোলটা দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন কোচ তিতে। যারা এই গোলটা দেখেছেন তাদের চোখে নেইমারের মন্ত্রমুগ্ধতার কথাই বেশি হয়েছে।
নেইমার যখন পেরুর বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়েছেন তখন তাকে ঘিরে ধরেছিল তিন ডিফেন্ডার। সেখান থেকে বের হওয়া অসম্ভব ছিল। কিন্তু চোখের পলকে ডজ দিয়ে বেরিয়ে যেভাবে বলটা পাকুয়েতাকে দিলেন তা সত্যি অবিশ্বাস্য। গোলের কৃতিত্বটাই তার।