সিলেটে কঠোর বিধিনিষেধ চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তত্পর। ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিদিন জরিমানাও করছে। যানবাহন আটক হচ্ছে। তার পরও মানুষ ঘরের বাহিরে আসছে মাস্ক ছাড়া। উদ্ভূত পরিস্থিতে সিলেট বিভাগে করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছেই। এদিকে সিলেট বিভাগের ঘরে ঘরে সর্দি-কাশি, জ্বর। বেশির ভাগ মানুষ স্থানীয় ফার্মেসি থেকে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন করে চলছেন। তারা করোনার নমুনা পরীক্ষা করাতে আগ্রহী নন। অবস্থা শোচনীয় হলেই হাসপাতালের শরণাপন্ন হচ্ছেন তারা।
এদিকে সংক্রমণ বাড়ার কারণে আইসিইউতে ঠাঁই হচ্ছে না। সিলেটের সরকারি বেসরকারি মিলে করোনা রোগীদের জন্য ৬৭টি আইসিইউ। এর মধ্যে বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে প্রায় ৪৫টি বেড। করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে রয়েছে ১৬টি বেড। ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে ছয়টি বেড। গত কয়েক দিন থেকে সিলেটে আইসিইউর জন্য চলছে হাহাকার। ১০০ শয্যার সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আর এমও ডা.সুশান্ত মহাপত্র ইত্তেফাককে জানান, এই হাসপাতালের ১৬টি আইসিইউ বেডের মধ্যে ১৫ টিতে রোগী ভর্তি। সাধারণ বেডও পরিপূর্ণ। অনেকের অবস্থা সংকটাপন্ন। সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, এখন করোনা পজিটিভ বেশির ভাগই গ্রাম থেকে আসছে। সরকারি পর্যায়ের করোনা আইসিইউ বেড খালি নেই। সচেতন না হলে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাবে।
অতীতের রেকর্ড ভঙ্গ :অন্যদিকে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে এক দিনে সিলেট বিভাগে ৩৮৭ জন করোনা পজিটিভ হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিসংখ্যানবিদ মো. মতিউর রহমান জানান, মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে শনাক্ত হওয়া ৩৮৭ জন করোনা রোগীর মধ্যে ১৯১ জন সিলেট জেলার। বাকিদের মধ্যে সুনামগঞ্জের ৫৬ জন, হবিগঞ্জের ২৮ জন ও মৌলভীবাজারের ৫৬ জন এবং সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ৫৬ জন।
সর্দি-কাশি জ্বর :এখন গ্রামীণ ডাক্তারদের চেম্বারে চিকিত্সাসেবা নিতে আসা বেশির ভাগই সর্দি-কাশি, জ্বরের রোগী। চিকিত্সকরা বলছেন, ভাইরাসজনিত জ্বরের প্রকোপ প্রতিবছরই দেখা যায়। অন্য বছরগুলোতে জ্বর-সর্দি চার-পাঁচ দিনে সেরে গেলেও এবার তা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। এবারের জ্বরের ধরন অনেকটা অচেনা। শীত শীত ভাব, মাথাব্যথা, শরীরে ও হাড়ে ব্যথা, খাবারে অরুচি, গন্ধহীনতা, ক্লান্তি, দুর্বলতা, নাক-চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া, চুলকানি, কাশি, অস্থিরতা ও ঘুম চলে যাওয়া, পেটের সমস্যা, বমি ও ডায়রিয়াসহ নানা রকমের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে।