আমেরিকান সৈন্যরা আফগানিস্তানে তাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমানঘাঁটি বাগরাম ছেড়ে চলে গেছে রাতের অন্ধকারে এবং আফগান কর্তৃপক্ষকে কিছু না জানিয়েই। ঐ ঘাঁটির নতুন কমান্ডার এই তথ্য জানিয়েছেন। এদিকে বিদেশি সৈন্য চলে যাওয়ার পর বিভিন্ন এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে তালেবান। এরই মধ্যে তারা আগামী মাসে শান্তি পরিকল্পনা উপস্থাপন করার পরিকল্পনা করছে। তালেবানের হামলার কারণে বিভিন্ন এলাকায় আফগানরা অস্ত্র হাতে তুলে নিচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। খবর বিবিসি, আলজাজিরা ও রয়টার্সের
বাগরামের নতুন কমান্ডার জেনারেল আসাদুল্লাহ কোহিস্তানি বলেছেন যে, আমেরিকানরা শুক্রবার ভোর রাত ৩টার সময় সেখান থেকে চলে যান। আফগান সামরিক বাহিনী এর কয়েক ঘণ্টা পর তা জানতে পারে। বাগরাম বিমানঘাঁটিতে একটা কারাগারও আছে, যেখানে এখনো বন্দি ৫ হাজারের মতো তালেবান সদস্য। মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গে আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকার নিয়ন্ত্রণ দ্রুততার সঙ্গে গ্রহণ করছে তালেবান।
জেনারেল কোহিস্তানি সোমবার বলেন, আফগান সরকারি বাহিনী ধারণা করছে, তালেবান বাগরাম বিমানঘাঁটি দখলের জন্য হামলা চালাবে। বিমানঘাঁটিতে উপস্থিত সাংবাদিকদের জেনারেল কোহিস্তানি বলেন, বিমানঘাঁটির নিকটবর্তী গ্রাম এলাকায় তালেবানের তত্পরতার কিছু খবর তারা এরই মধ্যে পেয়েছেন। ‘আমেরিকানদের সঙ্গে যদি আমাদের বাহিনীর তুলনা করেন, তাহলে বলব আমরা তাদের থেকে অনেক আলাদা’, বলেন জেনারেল কোহিস্তানি। তিনি বলেন, আমাদের সাধ্য অনুযায়ী আমরা দেশের সব মানুষকে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দিতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। সেনাঘাঁটি থেকে গভীর রাতে সৈন্য প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস বার্তা সংস্থা জানতে চাইলে আমেরিকান সামরিক মুখপাত্র কর্নেল সোনি লেগেট গত সপ্তাহে দেওয়া একটি বিবৃতির উল্লেখ করেন যাতে বলা হয়, মার্কিনবাহিনী তাদের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে আফগান নেতাদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করেছেন। জেনারেল কোহিস্তানির অধীনে রয়েছে প্রায় ৩ হাজার সৈন্য যা সেখানে মোতায়েন আমেরিকান বাহিনীর তুলনায় নগণ্য। বিমানঘাঁটিতে মার্কিন ও জোট বাহিনী মিলিয়ে সৈন্য সংখ্যা ছিল কয়েক হাজার।
অস্ত্র হাতে তুলে নিচ্ছে আফগানরা
আমেরিকানরা আফগানিস্তান ছেড়ে যখন চলে যাচ্ছে, তখন সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে তালেবান খুব দ্রুত দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যেই গ্রামাঞ্চলের বেশ কিছু জেলা এবং পার্শ্ববর্তী বড় আফগান শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ তারা গ্রহণ করেছে। পর্বন প্রদেশের অন্তত ৫০০ বাসিন্দা অস্ত্র তুলে নিয়েছেন তালেবানদের সঙ্গে লড়াই করার জন্য। এমপি জহির সালাঙ্গি বলেন, গত চার দিন ধরে তালেবানের হামলায় আমি ঘুমাতে পারছি না। তাই বাধ্য হয়ে দুই ডজনের বেশি বাসিন্দাকে নিয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবী যোদ্ধার দল গঠন করেছি যারা তালেবানদের সঙ্গে লড়াই করবে। তালেবান পর্বত থেকে তাদের ওপর অব্যাহত মর্টার হামলা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবী যোদ্ধারা। এদিকে তালেবান আগামী মাসে আফগান সরকারের কাছে শান্তি পরিকল্পনা লিখিতভাবে উপস্থাপন করতে পারেন। তালেবানের মুখপাত্র জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, সামনের দিনগুলোতে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, আগামী মাসে হয়তো পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হবে।