কাঠালিয়া উপজেলার চেঁচরীরামপুর ইউনিয়নের মহিষকান্দি গ্রামে নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকের সেন্টারিং খুলতে গিয়ে সিমেন্টের বিষাক্ত গ্যাসে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরো একজন। নিহতরা হলেন—রাজমিস্ত্রি মো. আসাদুল (৩০) ও শ্রমিক মো. মজনু মিয়া (২৩)। দুই জনকে উদ্ধার করতে গিয়ে আহত হন মো. শুভ খান (২২) নামের আরো এক যুবক। গতকাল মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
রাজমিস্ত্রি আসাদুল ভাণ্ডারিয়া উপজেলার গৌরীপুর গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। মো. মজনু কাঠালিয়া উপজেলার মহিষকান্দি গ্রামের শাহাদাত হোসেনের ছেলে এবং শুভ খান একই গ্রামের ইদ্রিস খানের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী জানান, মিরাজ খান নামের এক ব্যক্তির বাড়ির কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্যাংকের মুখ খুলে ভেতরে ঢুকে সেন্টারিংয়ের কাঠ খুলতে গেলে বিষাক্ত গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন রাজমিস্ত্রি আসাদুল। এ অবস্থা দেখে বাড়ির মালিকের ভাই পলাশ খান রাজমিস্ত্রিকে উদ্ধার করার জন্য প্রতিবেশি যুবক মজনুকে ডেকে আনেন। মজনু মিস্ত্রিকে উদ্ধার করতে ট্যাংকের ভেতরে ঢুকলে তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় অন্য প্রতিবেশি যুবক শুভ খান দুই জনকে উদ্ধার করার জন্য এগিয়ে আসলে তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ তিন জনকে উদ্ধার করে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিত্সক আসাদুল ও মজনুকে মৃত ঘোষণা করেন। মজনুর বোন সুমাইয়া বলেন, আমরা এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করব।
ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিত্সক আলী আজিম বলেন, সেপটিক ট্যাংকের মুখের ঢাকনা বন্ধ থাকায় মিথেন গ্যাসে অক্সিজেনশূন্য হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হতে পারে।
ঝালকাঠির পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাখাওয়াত হোসেন, থানা অফিসার ইনচার্জ পুলক চন্দ্র রায় ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।