রংপুরের চাষিদের ক্ষতি পোষাতে মানবিক সহায়তায় হাঁড়িভাঙা আম অন্তর্ভুক্ত

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারঘোষিত কঠোর লকডাউনের ফলে আম চাষে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন রংপুর অঞ্চলের আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা। লকডাউনের প্রথম দিন থেকেই ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে আম বাজার। নগরীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও টিভি মোড়ের মাঝামাঝি অবস্থিত অন্যতম হাঁড়িভাঙা আমের আড়তে বাইরের ব্যবসায়ীরা তো দূরের কথা জেলার অভ্যন্তরের ব্যবসায়ীরাও তেমন আসছেন না। ২০ জুনের পর হাঁড়িভাঙা আমের কেনাবেচার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি একদম নেই বললেই চলে। ফলে এ বছর হাঁড়িভাঙা আমের সম্ভাব্য ১৫০ কোটি টাকার বাণিজ্য নিয়ে সংশয়ে আছেন আম বেচাকেনার সঙ্গে সম্পৃক্তরা। তাই জেলা প্রশাসনের সহযোগিতাসহ প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা এবং ত্রাণ হিসেবেও এ পুষ্টিকর আম অন্তর্ভুক্তের দাবি জানিয়েছেন প্রান্তিক আমচাষিরা। এদিকে এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন চাষি ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতি কমিয়ে আনতে আম বিপণনে সহায়তার পাশাপাশি ত্রাণ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মহীন বিভিন্ন পেশার শ্রমিক ও তাদের পরিবারের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তার সঙ্গে আম তুলে দিচ্ছে জেলা প্রশাসন। গতকাল মঙ্গলবার জেলা স্কুল মাঠে কর্মহীন হরিজনদের হাতে এ সহায়তা তুলে দেন জেলা প্রশাসক আসিব আহসান।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রংপুরে প্রায় ৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এর মধ্যে হাঁড়িভাঙা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮৯৫ হেক্টার জমিতে। ফলন ধরা হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টন। প্রতি কেজি গড়ে ৫০ টাকা করে হলে উত্পাদিত আমের আনুমানিক মূল্য ১৫০ কোটি টাকা। কিন্তু করোনার কারণে দেশব্যাপী কঠোর লকডাউনে মানুষের চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা।

রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট মো. রেজাউল ইসলাম মিলন বলেন, কয়েক বছর ধরে এ অঞ্চলে হাঁড়িভাঙা আম অন্যতম অর্থনৈতিক পণ্যে পরিণত হয়েছে। কিন্ত করোনার কারণে আমের বাজার নিম্নমুখী। তিনি মনে করেন আম পরিবহনে ট্রেনের ব্যবস্থা করলে মূল্য নিশ্চিত হবে।

জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, করোনাকালীন চাষি ও ব্যবসায়ীরা যাতে আমের ন্যায্যমূল্য পান এজন্য উত্পাদিত আম ত্রাণ হিসেবে প্রদান করার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় আছে। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তার সঙ্গে শুধু ত্রাণ হিসেবে নয় পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবেও এ আম বিভিন্ন সরকারি মেনুতে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এজন্য তিনি জেলখানা, শিশু সদন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও অনুরোধ করেন।