মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লায় জলজটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। কয়েক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে যাচ্ছে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রধান সড়কসহ অলিগলির রাস্তাঘাট। নগরীর অধিকাংশ সড়ক ডুবে যাচ্ছে হাঁটু কিংবা কোমর পরিমাণ পানির নিচে। সড়ক ও ড্রেনের ওপর থই থই করছে ময়লা-আবর্জনা মিশ্রিত দূষিত পানি। কোথাও কোথাও বাড়িঘর, দোকানপাটের ভেতরেও ঢুকে পড়েছে পানি।
গত রবিবার টানা বৃষ্টির পর অধিকাংশ সড়কেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। সরজমিনে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, বেহাল অবস্থার মধ্যে পড়েছেন নগরীর গুরুত্বপূর্ণ লাকসাম সড়কের মনোহরপুর, দক্ষিণ চর্থা, টমছম ব্রিজ, শাকতলা, গোবিন্দপুর, বিসিক শিল্পনগরী, ঝাউতলা, রেইসকোর্স, কাঠেরপুল, কান্দিরপাড় টাউন হল মাঠ, স্টেডিয়াম, বজ্রপুর রোড, ছাতিপট্টি, চকবাজার, থিরাপুকুর পাড়, নজরুল এভিনিউ, ডিসি রোড, ছায়াবিতান, বিসিক, মুরাদপুর, বাগিচাগাঁও, চকবাজার, ইপিজেড রোড, সরকারি মহিলা কলেজ রোড, ঠাকুরপাড়া বৌদ্ধমন্দির রোড, কালিয়াজুরিসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। নগরীর কুচাইতলী এলাকার কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ক্যাম্পাস ও ভেতরের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়ে। অত্যন্ত ব্যস্ততম মনোহরপুর শিক্ষাবোর্ড এলাকা থেকে শাকতলা পানি উন্নয়ন বোর্ড, সওজ কার্যালয়ের সামনে দিয়ে জাঙ্গালিয়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিটাল পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়কের অবস্থা একেবারে নাজুক হয়ে পড়ে। পাশের খালের ময়লা-আবর্জনা মিশ্রিত দূষিত পানিতে সড়কটি সয়লাব হয়ে যায়। নগরীর শাকতলা এলাকার আবুল হাসেম, আনোয়ারুল হক, আবদুল জলিলসহ অন্তত ১২ জন শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট, নকশা বহির্ভূত বহুতল ভবন ও বাড়িঘর নির্মাণ, রাস্তা ও ড্রেনের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ, সরু পরিসরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে একেবারে ধীরগতিতে পানি নিষ্কাশন হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা অনেকটা স্থায়ী রূপ নিয়েছে। কুমিল্লা নাগরিক ফোরামের সভাপতি কামরুল আহসান বাবুল বলেন, জলাবদ্ধতা নগরবাসীর নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্ভোগের অন্ত নেই।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শেখ মো. নুরুল্লাহ বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা ড্রেন সংস্কার ও পরিষ্কারের রুটিন কাজগুলো করছি। তবে নগরীর টমছম ব্রিজ থেকে নোয়াগাঁও চৌমুহনী পর্যন্ত পানি নিষ্কাশনের বড় খালের কিছু জায়গা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দখলে আছে। খালটি সরু হয়ে গেছে, তা পরিষ্কার করা হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে খালের ময়লা পানি উপচে সড়ক ও আশপাশের আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা তলিয়ে যায়। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু বলেন, নগরীতে পর্যাপ্ত ড্রেন রয়েছে। তবে অতিবৃষ্টির কারণে পানি নিষ্কাশনের প্রধান খালটিতে পানি বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ধীরগতিতে যাচ্ছে।