নেতাই নদীর বেড়িবাঁধে ভাঙন দুর্ভোগে ৩০ গ্রামের মানুষ

ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

ধোবাউড়ায় নেতাই নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন প্রায় ৩০ গ্রামের মানুষ। টানা বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের প্রবল স্রোতে বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। এতে নদী পাড়ের আশপাশসহ ঐ ৩০ গ্রামের মানুষের যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটছে। উপজেলার ঘোষগাঁও ইউনিয়নের ঘোষগাঁও-কলসিন্দুর বেড়িবাঁধে রায়পুর, পূর্ব ভালুকাপাড়া এবং ভালুকাপাড়া মার্সেল চিসামের বাড়ির পাশে তিনটি স্থানে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। এছাড়া গামারীতলা ইউনিয়নের কলসিন্দুর এলাকার বিল্লাল হোসেনের বাড়ির পাশে এবং কামালপুর এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। এতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম বেকায়দায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

সরজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘোষগাঁও ইউনিয়নে ভাঙনের ফলে ভারুকাপাড়া, বল্লভপুর, জরিপাপাড়া, রায়পুর, চকপাড়া, লাঙ্গলজোড়াসহ প্রায় ১৬ গ্রামের মানুষ যাতায়াত করতে পারছে না। এছাড়াও এই বেড়িবাঁধ দিয়ে কলসিন্দুর সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভালুকাপাড়া সরকারি ও উচ্চবিদ্যালয়, ঘোষগাঁও সরকারি ও উচ্চবিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। অন্যদিকে গামারীতলা ইউনিয়নের কলসিন্দুর এলাকা ও কামালপুর এলাকায় ভাঙনে কামালপুর, ছান্দেরনগর, গৌরিপুরসহ প্রায় ১৪ গ্রামের মানুষ যাতায়াত সমস্যায় পড়েছেন।

ঘোষগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামসুল হক বলেন, ‘ভাঙন মেরামত করার জন্য আমি ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি।’ গামারীতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন খান জানান, প্রায় ২০ বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড ময়মনসিংহ জেলা অফিসের উদ্যোগে এই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর জনপ্রতিনিধিরা বারবার সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো কাজ হয়নি। নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তা রূপ নেয়নি বলে অভিযোগ করেন নেতাই পাড়ের বাসিন্দারা।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড ময়মনসিংহ জেলার সহকারী প্রকৌশলী আরাফাতা আহমেদ জানান, ইতিমধ্যে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।