স্পোর্টস রিপোর্টার
দিনটা শুরু হয়েছিল জিম্বাবুয়ের পেসারদের তোপে নাকাল হয়ে। ১৩২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে রীতিমতো কাঁপছিল বাংলাদেশের ব্যাটিংলাইন। হারারের উইকেটে নতজানু হয়ে পড়া টাইগার শিবিরে স্বস্তির বাতাস ফিরেছে লিটন দাস ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটিং দৃঢ়তায়। সপ্তম উইকেটে তাদের ১৩৮ রানের যুগলবন্দিতেই ব্যাটিং ধস থেকে রক্ষা পেল বাংলাদেশ। গতকাল ম্যাচের প্রথম দিন শেষে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২৯৪ রান।
খাদের কিনার থেকে দলকে টেনে তুললেও ৫ রানের আক্ষেপ নিয়ে ফিরেছেন লিটন দাস। নবম হাফ সেঞ্চুরিটাকে নিজের প্রথম সেঞ্চুরিতে রূপান্তরিত করতে পারেননি। ক্যারিয়ার সেরা ৯৫ রানের ইনিংস খেলে ফাইন লেগে ক্যাচ দেন তিনি। মাহমুদউল্লাহ ক্যারিয়ারের ১৭তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন। মাহমুদউল্লাহ ৫৪ ও তাসকিন আহমেদ ১৩ রানে অপরাজিত আছেন।
হাঁটুর ইনজুরিতে পড়া তামিম ইকবালকে ছাড়াই একাদশ গড়েছিল বাংলাদেশ। ৯ ব্যাটসম্যান, ৪ স্বীকৃত বোলার নিয়ে গড়া রক্ষণাত্মক একাদশের মাধ্যমে ব্যাটসম্যানদের প্রতি টিম ম্যানেজমেন্টের অনাস্থাও স্পষ্ট ছিল। টস-জয়ী বাংলাদেশের ৮ রানে ২ উইকেট হারানোর দৃশ্য অবশ্য ব্যাটসম্যান-বোঝাই একাদশের পক্ষেই কথা বলেছে।
দিনের শুরুতেই বাংলাদেশকে কাঁপিয়েছেন পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি। ইনিংসের পঞ্চম বলে সাইফ হাসানকে (০) বোল্ড ও নিজের তৃতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে শান্তকে (২) ফেরান তিনি। সাদমানকে নিয়ে অধিনায়ক মুমিনুলের ৬০ রানের জুটি বিপদ কাটানোর আভাস দিয়েছিল। কিন্তু লাঞ্চের আগে সাদমান (২৩) স্লিপে ক্যাচ দেন।
আঙুলের ইনজুরি কাটিয়ে খেলতে নামা মুশফিকের আঙুল আবারও লাফিয়ে ওঠা বলে রক্তাক্ত হয়েছে। প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়ে কিছুক্ষণ ব্যাটিং করলেও স্থায়ী হতে পারেননি তিনি। লাঞ্চের পর ষষ্ঠ ওভারেই মুজারাবানির তৃতীয় শিকার হন মুশফিক (১১)। পরের ওভারে সাকিব (৩) উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। একপ্রান্তে উইকেট পড়তে থাকলেও মুমিনুলের ব্যাটে সচল ছিল বাংলাদেশের রানের চাকা। ক্যারিয়ারের ১৪তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি।
চা বিরতির আগে মুমিনুলও গালিতে ক্যাচ দেন। তিনি ৭০ রান করেন। ১৩২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বসা বাংলাদেশকে পথ দেখায় মাহমুদউল্লাহ-লিটন দাসের জুটি। পড়ন্ত ভেঙেছিল তাদের জুটি। ত্রিপানোর করা ৭৯তম ওভারের প্রথম বলে লিটন দাস, দ্বিতীয় বলে মিরাজ আউট হন। হ্যাটট্রিক হতে দেননি তাসকিন। লিটন ১৪৭ বলে ১৩টি চারে ৯৫ রান করেন। জিম্বাবুয়ের মুজারাবানি ৩টি, ত্রিপানো, নাউচি ২টি করে, এনগারাবা ১টি উইকেট পান।