রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই ভূমিকম্প হয়েছে ঢাকা, দিনাজপুর, রংপুর, কুড়িগ্রাম, পাবনা, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, শেরপুর, সিলেটসহ বেশ কয়েকটি জেলায়। তাত্ক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়ারলেস সুপারভাইজার মো. জহিরুল ইসলাম জানান, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ২। এটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প। ভূমিকম্পের উত্পত্তিস্থল বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পরিমাপক কেন্দ্র থেকে ২৪২ কিলোমিটার উত্তরে ভারতের লখিপুরে ছিল বলেও জানান জহিরুল ইসলাম। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্যানুসারে, এই ভূমিকম্পের উত্পত্তিস্থল ছিল ভারতের আসাম রাজ্যের লখিপুর শহর থেকে সাত কিলোমিটার দক্ষিণে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৩। ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ভূ-পৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমানও ভূমিকম্পের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উত্পত্তিস্থল ছিল ভারতের আসাম ও মেঘালয় সীমান্তে ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। জি নিউজের খবরে বলা হয়েছে, কলকাতা, আসামসহ বেশ কয়েকটি স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। কম্পনের উত্পত্তিস্থল গুয়াহাটি থেকে ১৬০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বের শোনিতপুর। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ৬.৪। প্রায় ২৭ সেকেন্ড কলকাতায় স্থায়ী হয় কম্পন। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬.০। এর আগে ইউরোপীয় ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র জানিয়েছিল ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬.২। আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার সকালে ৭টা ৫৪ মিনিট নাগাদ কম্পন অনুভূত হয় উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং, কালিম্পং প্রভৃতি জেলায়। মালদা, মুর্শিদাবাদ ও দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলাতেও কম্পন অনুভব করেন বাসিন্দারা।