তারিক হাসান, কলকাতা প্রতিনিধি
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দল বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সংঘাতে দলের যুব মোর্চার সভাপতির পদ ছাড়লেন এমপি সৌমিত্র খাঁ। তবে তিনি দল ছাড়ছেন না বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে, শুভেন্দুকে আক্রমণ করে বক্তব্য দিয়েছেন দলের আরেক নেতা রাজীব ব্যানার্জি। সংঘাতের সুর চড়া হতেই সৌমিত্রকে গতকাল বুধবার ডেকে পাঠান দলের সাংগঠনিক সভাপতি অমিতাভ চক্রবর্তী। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, ‘এ ধরনের মন্তব্যে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ হচ্ছে। ফেসবুকে লাইক, পোস্ট দিয়ে দল চলে না। মন্ত্রিত্ব না পেয়ে হতাশা এসেছে। তাই এসব বলছেন।’
গতকাল বুধবার ফেসবুক পোস্টে যুব মোর্চার পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন বিষ্ণুপুরের এমপি সৌমিত্র খাঁ। তিনি বলেন, যেভাবে দল চলছে, তাতে যুব মোর্চার সভাপতি হিসেবে কাজ করা কঠিন হচ্ছে। বিধানসভার যিনি দলনেতা হয়েছেন, তিনি নিজেকে জাহির করছেন। দিল্লিতে গিয়ে বারবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ভুল বোঝাচ্ছেন। পরে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি বলেন, ‘আমি যুব মোর্চার প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে যাওয়ার জন্য আগেও দলকে বলেছিলাম। আমার মনে হয়েছিল, নির্বাচনে বিজেপির যে ফলাফল হয়েছে, সেই ব্যর্থতার দায় আমারও। নরেন্দ্র মোদিকে দেখে আমি বিজেপিতে এসেছিলাম। কিন্তু একজন নেতা এসেছেন, তিনি বলছেন তার নেতৃত্বে সবকিছু হচ্ছে। ভেবে দুঃখ লাগছে, আমি তো এলাকায় না ঢুকে জিতেছিলাম। দল আমাকে পদ যখন দিয়েছে, তখন লড়াইও করেছি। কিন্তু এখন যেভাবে দল চলছে, তাতে যুব মোর্চার সভাপতি হিসেবে চলা খুব মুশকিল হয়ে পড়েছে।’
সৌমিত্র বলেন, ‘রাজ্য সভাপতিকে বলতে গেলে তিনি অর্ধেক বোঝেন, অর্ধেক বোঝেন না। আমি স্বার্থ নিয়ে আসিনি। তৃণমূলেও কখনো স্বার্থ নিয়ে কাজ করিনি।’
এদিকে শুভেন্দুকে আক্রমণ করে রাজীব ব্যানার্জি এক ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, ‘বিরোধী নেতাকে বলব, যাকে মুখ্যমন্ত্রী দেখতে চেয়ে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ভোট দিয়েছে, সেই মুখ্যমন্ত্রীকে অযথা আক্রমণ না করে সাধারণ মানুষের দুর্দশামুক্তির জন্য পেট্রল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের মূল্য হ্রাস করাই এখন একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত।’ এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘তার কথায় কিছু যায়-আসে না।’