বিশ্বের কোনো না কোনো প্রান্তে গণহত্যা ঘটেই চলেছে। গণহত্যা প্রতিরোধে জাতিসংঘকে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে হবে। যারা গণহত্যা সংঘটিত করে তাদের শাস্তির আওতায় আনা গেলে পরবর্তী সময়ে কেউ আর এমন নৃশংস কাজ করার সাহস পাবে না বলে মন্তব্য করেছেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নেতৃবৃন্দ। গতকাল বুধবার জেনেভায় জাতিসংঘের ইউরোপীয় সদর দপ্তরের সামনে আয়োজিত সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে নেতৃবৃন্দ এ আহ্বান জানান।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্র ও সর্ব ইউরোপীয় শাখার সহযোগিতায় সুইজারল্যান্ডের নির্মূল কমিটি এই সমাবেশের আয়োজন করে। জেনেভার সময় বেলা ১২টায় আরম্ভ হয়ে দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে পাঁচ মহাদেশের ২৩টি দেশের মানবাধিকার কর্মী, বুদ্ধিজীবী, আইনপ্রণেতা, গণহত্যার ভিকটিম এবং নির্মূল কমিটির বিভিন্ন শাখার নেতাকর্মীরা কায়িকভাবে এবং ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।
নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার উদ্বোধনী বক্তব্যে ‘৭১-এ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসরদের গণহত্যার বিবরণ দিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালের গণহত্যার অপরাধীদের বিচারের জন্য ২০১০ সালে বাংলাদেশে ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করা হয়েছিল। এখন সময় এসেছে বাংলাদেশের গণহত্যার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা মৈত্রী সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্রিটিশ মানবাধিকার নেতা জুলিয়ান ফ্রান্সিস বলেন, ‘যিনি বাংলাদেশের অভ্যুদয় প্রত্যক্ষ করেছেন তার পক্ষে এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং মেনে নেওয়া কঠিন যে, এখনো অনেকেই বাংলাদেশের গণহত্যা অস্বীকার করে।
অস্ট্রেলিয়ান লেবার পার্টির এমপি লরি ফার্গুসন বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সরকারি হিসেবে ২ লাখ (বেসরকারি হিসাবে ৫ লক্ষাধিক) নারীকে তারা নির্যাতন করে যা পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্যতম ঘটনাগুলোর একটি।
খেমার রুজ ট্রায়ালের কম্বোডিয়ান টাস্ক ফোর্সের উপদেষ্টা গণহত্যা বিশেষজ্ঞ ড. হেলেন জার্ভিস সমাবেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বলেন, কম্বোডিয়াসহ আরো অনেক দেশের সম্প্রদায়ের ওপর চালানো গণহত্যাকে জাতিসংঘ স্বীকৃতি দিয়েছে। সেই প্রত্যাশা নিয়ে আমি আজকে এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করছি।
ভারতের লেখক সাংবাদিক হিরন্ময় কার্লেকার বলেন, ‘সাংবাদিক হিসাবে আমি ’৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কভার করার সময় সচক্ষে যদি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংসতা প্রত্যক্ষ না করতাম তাহলে কখনোই হয়তো এ বীভত্সতার কথা বিশ্বাস করতাম না। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা মানবতার বিরুদ্ধে যেসব অপরাধ সংঘটিত করেছিল তা ক্ষমার অযোগ্য।
পাকিস্তানের মানবাধিকার নেতা তাহিরা আবদুল্লাহ বলেন, ‘১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী দ্বারা সংঘটিত গণহত্যার জন্য জেনারেল পারভেজ মুশারফ বাংলাদেশে গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু আমি চাই—পাকিস্তান যেন রাষ্ট্রীয়ভাবে বাংলাদেশের কাছে নিঃস্বার্থ ক্ষমা চায়।