থাইল্যান্ডে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমে যাওয়ায় গত সপ্তাহে পর্যটকদের জন্য দেশটির অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র ফুকেট দ্বীপ খুলে দেওয়া হয়। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১০০ দিনের মধ্যে বিদেশি পর্যটকদের জন্য পুরো দেশ উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু মহামারির প্রকোপ আবারও বাড়তে থাকায় সেই পরিকল্পনা বাতিল হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) দেশটিতে নতুন করে ৭ হাজার জনের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত করা হয়েছে এবং মৃত্যুবরণ করেছেন আরও ৭৫ জন। যা দৈনিক হিসাবে রেকর্ড।
গত বছর করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সফলতা অর্জন করেছিল থাইল্যান্ড। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ভাইরাসটির ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের কারণে আবারও প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা দেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি হাসপাতালে গুরুত্বর অসুস্থ রোগীদের জন্য বেডের সংকট দেখা দিয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে যে, বিমানবন্দরের একটি টার্মিনালকে তারা ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটসহ ফিল্ড হাসপাতালে রুপান্তর করবে। এতে অন্তত ৫ হাজার বেড থাকবে।
এর আগে গত মাসে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রয়ুত চান-ওচা লক্ষ্য নির্ধারণ করেন যে, আগামী ১২০ দিনের মধ্যে পুরো দেশ সম্পূর্ণ খুলে (বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া) দেওয়া হবে। ব্যবসাসহ সবকিছু স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে এবং ভ্যাকসিন নেওয়া পর্যটকরা পুরো দেশে কোয়ারেন্টিন ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারবেন।
যতদিন সবাই ভ্যাকসিন গ্রহণ করছে না এবং পুরো বিশ্ব কোভিড-১৯ মুক্ত হচ্ছে না, ততদিন পর্যন্ত থাইল্যান্ড অপেক্ষা করবে না, যোগ করেন তিনি।
গত সপ্তাহে ফুকেট দ্বীপ খুলে দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত ২ হাজার পর্যটক সেখানে এসেছেন। গতকাল বুধবার (৭ জুলাই) এক বিদেশি পর্যটকের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত করা হয়েছে। কর্তপক্ষ জানিয়েছে, ওই পর্যটক সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ অবস্থা থেকে বের হওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে লকডাউন।
ইত্তেফাক/টিএ