আফ্রিকান এক হাফেজ

সবকিছুরই অলংকার আছে। কোরআনের অলংকার হচ্ছে সুন্দর কণ্ঠ। সুন্দর, সুললিত তিলাওয়াত শুধু মুসলিমদের মোহিত করে না, অমুসলিমদেরও আকৃষ্ট করে। আধুনিক ইসলামিক মনোবিজ্ঞানের জনক মালিক বাদরি তার গবেষণায় দেখিয়েছেন, একটানা কোরআন শুনলে শরীরের উচ্চরক্তচাপও কমে যায়।

কোরআন আল্লাহ নাজিল করেছেন আল্লাই এর রক্ষাকর্তা। বর্তমানে পৃথিবীতে কত হাফেজ আছে, তা জানা না থাকলেও তার পরিমাণ অসংখ্য। তাদের একেক জনের একক রকম কণ্ঠের মুগ্ধতা আছে। অনেকে আবার বিখ্যাতদের অনুসরণ করতে পছন্দ করেন। আফ্রিকান মহাদেশের সুদানে বাস করা এ রকমই এক ভিন্নধর্মী হাফেজ শেখ নুরেন মুহাম্মদ সিদ্দিক (১৯৮২-২০২০)। কোরআন তিলাওয়াতের জন্য তিনি বিখ্যাত। তার কোরআন পাঠের ধরন অন্যদের থেকে আলাদা। তার উচ্চারণে আফ্রিকান টান সুললিত কণ্ঠ মাধুর্যে ভরা। বিবিসির ভাষ্যে, তার গলা পেন্টাটনিক মিউজিক্যাল স্কেলে ওঠে। তিলাওয়াতের এই ধরণ দক্ষিণ সাহারা বেল্টের পশ্চিম আফ্রিকা থেকে হর্ন অব আফ্রিকা পর্যন্ত প্রচলিত এবং প্রসারিত। তিনি মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার পঠনের জন্য বিশেষ  অনুমতিপ্রাপ্ত।

নুরিন শেখ মুহাম্মদ সিদ্দিক দক্ষিণ খোরদোফান রাজ্যের বাড়া জেলায় ১৯৯৬ সালে খালাই শেখের হাতে কোরআন মুখস্থ করা শুরু করেন। তিনি ইমাম হিসেবে খার্তুম গ্র্যান্ড মসজিদে ইমামতি করেন এবং আরো অনেক বিখ্যাত মসজিদে কাজ করেন। তিনি ১৭ বছর বয়সে কোরআন মুখস্থ করে ফেলেন। তারপর তিনি খার্তুমের ‘হলি কোরআন অব ইসলামিক সায়েন্স’ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে স্নাতক হন।

সুদানের পক্ষ থেকে তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কোরআন তিলাওয়াতের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। মালেশিয়া ও দুবাইয়ে ৮৩টি দেশের মধ্যে তিনি তৃতীয় স্থান আধিকার করেন। ২০০৫ সালে সৌদি আরবে কিং আব্দুল আজিজ পুরস্কারের জন্য প্রতিযোগিতা করে দ্বিতীয় স্থান আধিকার করেন। ২০০৬ সালে লিবিয়ার প্রতিযোগিতায় তিনি ৬৬টি দেশের মধ্যে দ্বিতীয় হন।

স্বল্পজন্মা এই হাফেজ  মাত্র ৩৮ বছর বয়সে  সুদানের হালফা শহরে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান। তিনি জনসমাবেশে কোরআন তিলাওয়াত করে অনেক মানুষকে মন্ত্রমুগ্ধ ও কান্নায় হূদয়কে বিগলিত করে দিতে পারতেন এবং তিলাওয়াত শোনার জন্য মানুষ চারপাশে জমায়েত হতো। ইউটিউবে সার্চ দিলেই তা দেখতে পাওয়া যায় এবং ভিন্ন এক অতীন্দ্রিয় সুরের মোহনায় মানুষ দোল খেত।

lলেখক :প্রভাষক, কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট স্যাপার কলেজ, নাটোর