কেমন চলছে লকডাউন

করোনা পরিস্থিতির অবনতিতে বর্তমানে দেশে চলছে লকডাউন। কিন্তু লকডাউন পুরোপুরি মানা হচ্ছে কি? এ ব্যাপারে টেলিফোন ও ইমেইলে প্রাপ্ত পাঠকদের মতামত আজ প্রকাশিত হলো।

বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে লকডাউন পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা দুরূহ। দিনে আনে দিনে খায় এমন জনগোষ্ঠীর দুবেলা খাবারের নিশ্চয়তা বিধান করতে পারলে লকডাউন আরো বেশি কার্যকর হতো। দৈনন্দিন প্রয়োজনেই মানুষকে ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে হয়। উন্নত দেশে সকল মানুষের নিকট অর্থপ্রণোদনা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু উন্নয়নশীল বিশ্বে কেবল রফতানিমুখী শিল্পখাত কিছু প্রণোদনা পেয়েছে। এমনটি মোটেও কাম্য নয়। তবে সুস্থ থাকার প্রত্যাশায় আমাদের দেশে মাস্ক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে যা আশাব্যঞ্জক। মোটকথা, করোনার মতো মহামারি প্রতিরোধে সাময়িক লকডাউনের বিকল্প নেই। এই দৃষ্টিতে লকডাউনকে ব্যর্থ বলারও কোনো উপায় নেই।

মো. ফখরুল ইসলাম টিপু, সেনবাগ, নোয়াখালী

 

দেশের সর্বত্র চলছে সর্বোচ্চ কঠোর লকডাউন। দেশের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছেন হাজার হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। যেন বাস্তবিক অর্থেই লকডাউন পালিত হয়। তাই বলা যায়, লকডাউন পুরোপুরিই পালিত হচ্ছে। বিচ্ছিন্নভাবে ব্যতিক্রম যা কিছু দেখা যাচ্ছে তারও অবসান হবে, যদি সমাজের বিত্তবানরাও এগিয়ে আসেন অসহায় শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষের সাহায্য-সহযোগিতায়। কারণ খাদ্য নিশ্চিত না করে এ বিচ্ছিন্নতা এড়ানো প্রায় অসম্ভব। তারপরও দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ মানুষ সচেতন। কিছু মানুষ অযথা বাইরে বেরুচ্ছে যা খুবই দুঃখজনক।

উবাইদুল্লাহ তারানগরী

দুধনই ধোবাউড়া, ময়মনসিংহ।

শহর ও জেলা সদরে ঘোষিত লকডাউনের কঠোরতার প্রায় পুরোটাই কার্যকর হলেও গ্রামের পরিস্থিতি আগের মতোই। শহরের রাস্তাঘাটে মানুষ ও যানবাহনের চলাচল অত্যন্ত সীমিত হলেও সংক্রমণের চলমান ভয়াবহতার অন্যতম ক্ষেত্র গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষ এখনো অসচেতন। বন্ধ হয়নি হাটবাজার ও দোকানপাটে অবাধে চলাচল। অন্যদিকে, আয়ের পথ বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুর্বিপাকে পড়েছেন দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষজন। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যগণ লকডাউন কার্যকরে যতই প্রচেষ্টা চালাক না কেন সাধারণ মানুষের সর্বোচ্চ সচেতনতা ও সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই।

আবু ফারুক

বনরুপা পাড়া, সদর, বান্দরবান।

কঠোর লকডাউন চলাকালীন সংক্রমণ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দৈনিক শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় রেকর্ডের ভাঙা-গড়ার খেলা চলছে। অন্যদিকে অধিকাংশ মানুষ লকডাউনের কঠোরতার তোয়াক্কা না করে বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে যাচ্ছেন। সড়কে তাই যানবাহনের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে।

আবুল কাশেম

সিকদার ভিলা, বহদ্দারহাট, চট্টগ্রাম।

কঠোর ‘লকডাউন’ আর ‘শাটডাউন’ যাই-ই বলেন, এদেশে তা কার্যকর বা বাস্তবায়ন করা অতি দুরূহ! কেবল যারা বোঝেন, করোনার ভ্যারিয়েন্ট বা এর অতি খারাপ দিক তারাই জীবনের ভয়ে বাসায় আছেন বা থাকার চেষ্টা করছেন—বাকিরা সবাই বাইরে। এই করোনায় গরিব আরো গরিব হচ্ছে, ধনী আরো ধনী হচ্ছে! তাই ‘লকডাউন’ আর চাই না! এক্ষেত্রে আমার প্রস্তাব হলো—জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে আরো কঠোর হতে হবে।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

দেশেব্যাপী চলছে কঠোর লকডাউন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই অবস্থা আমরা মোকাবিলা করতে পারব। ইনশাল্লাহ সে বিশ্বাস আমাদের রয়েছে। এক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা চাই।

এস কে মো. রমিজ উদ্দিন

আয়কর আইনজীবী, কাকরাইল, ঢাকা।

ঘরমুখো মানুষের ভিড় এখনো অব্যাহত রয়েছে। কেউ পায়ে হেঁটে, কেউবা মালবাহী গাড়িতে উঠে রওনা হচ্ছেন। এদিকে কঠোর লকডাউনের সময়ে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির। এক ধরনের ব্যবসায়ীর একটি সিন্ডিকেট রয়েছে যারা সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। তাই আমরা মনে করি, লকডাউকে সত্যিকার অর্থে কার্যকর ও গঠনমূলক করতে হলে সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

শিশির

পিলখানা, ঢাকা।

মহামারি করোনায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে আবারও চলছে কঠোর বিধিনিষেধ। বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়েছে। বিনা কারণে বের হওয়ায় অনেককেই আটক ও জারিমানা করা হচ্ছে। এর পরেও মানুষ বের হচ্ছে কেউ প্রয়োজনে, কেউবা অপ্রয়োজনে। সত্যিকার অর্থে অনেকেই লকডাউন মানছেন না। তাই আমরা মনে করি, আইনের প্রতি আমাদের সবার শ্রদ্ধাশীল থাকা অবশ্যই দরকার।

সৈয়দা আনতারা আনীকা লাবণ্য

ইডেন মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, আজিমপুর, ঢাকা।

অনেকটাই ঢিলেঢালাভাবে চলছে লকডাউন। সর্বোচ্চ প্রস্তুতির কথা বলা হলেও মানুষের চলাচল রয়েছে স্বাভাবিক। আবার কোথাও কোথাও লকডাউন ভঙ্গকারীদের জরিমানাও করা হচ্ছে। ঢাকার পুরোনো এলাকায় অলিগলিতে বিভিন্ন দোকান পাট ও চায়ের দোকানে রয়েছে মানুষের অনেক সমাগম। এখানে প্রয়োজন ছাড়াই মানুষ চলাচল করছে। সব মিলিয়ে কঠোর লকডাউন বলা হচ্ছে; কিন্তু সব জায়গায় তেমনটি দৃশ্যমান নয়। সুতরাং লকডাউন হতে হবে শক্তিশালী ও কার্যকর।

হোসনে আরা বাশার নীলা

হাজারীবাগ, ঢাকা।

লকডাউন কার্যকর করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন। ঘর থেকে বের হলে প্রশ্ন করছেন। বিশেষ করে মাস্কবিহীন লোকদের আটকিয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। এছাড়া প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়ার পর পথে পথে নানান প্রশ্নের মুখে পড়ছেন নগরবাসী। তাই আমরা মনে করি, লকডাউনকে আরো শক্তিশালী করতে সবরকম নিয়মাবলি অনুসরণ করা আবশ্যক।

পারভীন সুলতানা বিউটি

শেখ পাড়া, রামচন্দ্রপুর, ঝিনাইদহ।

শুধু লকডাউনই করোনার প্রতিরোধে একমাত্র সমাধান নয়। এর জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণহারে শহরে বন্দরে গ্রামে গঞ্জে দ্রুত মানসম্পন্ন টিকা প্রদানের সুব্যবস্থা করা। এতে যেন একজন সাধারণ মানুষও বাদ না পড়েন। প্রয়োজনে দেশব্যাপী ক্রাস প্রোগ্রাম হাতে নিতে হবে। তাছাড়া যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের জন্য পৃথকভাবে সুচিকিত্সার ব্যবস্থা অবলম্বন করতে না পারলে এই মহামারি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে না বলে আমি মনে করি।

মো. হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী (হিফজু)

সেক্টর-২, হাউজিং স্টেট, রাজশাহী

একের পর এক ভ্যারিয়েন্ট পরিবর্তন করে করোনা মহামারি ভয়ংকর আগ্রাসী রূপ ধারণ করেছে। বাংলাদেশের সরকার দেশের জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য লকডাউন দিলেও জনগণ অনেক ক্ষেত্রেই তা মানছে না। এর প্রধান কারণ হিসেবে জনগণ অজুহাত দিচ্ছে নিজেদের অর্থনৈতিক সমস্যাকে। খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষেরা কাজ না করলে ঘরে খাবার মিলছে না বিধায় তারা লকডাউন মানতে পারছে না। পেটের ক্ষুধার যন্ত্রণা তাদেরকে লকডাউন মানতে দিচ্ছে না। দিন আনে দিন খায় এরকম খেটে খাওয়া মানুষদের যদি সরকার লকডাউনের পূর্বে খাবারের ব্যবস্থা করে দিত তাহলে এসব মানুষ লকডাউন মানতে পারত এবং তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকত। অনেক কর্মজীবী মানুষের কর্মস্থল খোলা থাকায় তাদের পক্ষেও লকডাউন মেনে ঘরে বসে থাকা সম্ভব হচ্ছে না।

এস এম হূদয় রহমান

ফ্রিল্যান্স সংবাদকর্মী

প্রথম কয়েক দিন মানুষ লকডাউনের বিধিনিষেধ মেনে চললেও সড়কে যান চলাচলের পাশাপাশি অলিগলিতে মানুষের অপ্রয়োজনীয় চলাফেরা ক্রমশ বাড়ছে। অন্যদিকে, সংক্রমণ পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। এমন অবস্থায় আমাদের লকডাউনের প্রতি অবহেলা প্রত্যাশিত ফলাফল প্রাপ্তির অন্তরায়।

মোহাম্মদ ফয়সাল

১৪৬ ডি.টি. রোড পূর্ব মাদারবাড়ি চট্টগ্রাম।

কভিড-১৯ আমাদেরকে অনেক কিছু শিখেয়েছে। আমরা হারিয়েছি যুগ-যুগান্তরে অর্জিত সংস্কৃতি। পৃথিবীতে যুগযুগ ধরে বিভিন্ন মহামারি মানুষকে একত্রিত হয়ে মোকাবিলা করতে শিখিয়েছিল। কিন্তু করোনা শিখিয়েছে পৃথক হওয়া। বাবার লাশ ছেলে দাফন করতে ভয় পায়। এই অবস্থার উন্নতি চাইলে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

সাখাওয়াত হোসেন সাজু

ছোটহরিপুর মুন্সীপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

রোজগারের তাগিদে বাহিরে যেতেই হয়। না গিয়ে উপায় নেই। যে কারণে লকডাউন অনেকেই মানছে না।

সালেহা আফরিন বেবী

শিবগঞ্জ, সিলেট।

করোনা মহামারি আগের চেয়ে বেড়েছে। বিশেষ কারণ ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের না হওয়ার বিধিনিষেধ থাকলেও অনেকেই বের হচ্ছে। এদিকে লকডাউনের সময়সীমা বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই লকডাউন চলবে। তবে নিম্ন-আয়ের মানুষ অনেক কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছে। পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, তা বলা যাচ্ছে না। পরিবেশ আবার স্বাভাবিক হোক—সেটাই প্রত্যাশা করছি।

প্রহরী মনিরুজ্জামান

ত্রিশাল, ময়মনসিংহ

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দেশে চলছে লকডাউন। বন্ধ রয়েছে সব ধরনের গণপরিবহন, সরকারি-বেসরকারিসহ অন্যান্য অফিস, মার্কেট ও শপিংমলসমূহ। গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও কোনো কিছুতেই মানুষের যাত্রা রোধ করা যাচ্ছে না। অনেকে রিকশা, ভ্যান, পিকআপ গাড়ি ও পায়ে হেঁটে চলেছে গন্তব্যে। কঠোর লকডাউনের বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও মানুষ বের হচ্ছে বিভিন্ন কাজকর্মে। আবার কেউ বা চায়ের দোকানে বসে চা পান করছে, আড্ডা দিচ্ছে। সত্যিকার অর্থে মানুষ সচেতন নয়, যার ফলে মানুষের এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

আল মায়ামী

ফুলবাড়িয়া, সাভার

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক কর্মীকে আনার কথা থাকলেও বেশির ভাগ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তা মানছে না। যার ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরো বেড়েছে। তাই আমরা মনে করি লকডাউন যতই দীর্ঘ হোক না কেন, মানুষ যদি তা না মানে বা না শোনে, তাহলে এই লকডাউন কোনো সুফল বয়ে আনবে না।

মো. ইফতেখার হোসাইন লিটন

হাইমচর, চর ভৈরবী

কঠোর এই লকডাউনের মধ্যেও মানুষ বের হচ্ছে। বিভিন্ন কাজের অজুহাতে বের হতে হচ্ছে। কথা হচ্ছে আগে মানুষকে বুঝাতে হবে। প্রতিটি এলাকায় পাড়া-মহল্লায়, জনপ্রতিনিধি দিয়ে মাইকিং করতে হবে ও লিফলেট বিতরণ করতে হবে। অন্যদিকে গরিব মানুষদের জন্য অন্ন-বস্ত্র দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

মো. মেজবাহউদ্দিন সেলিম

ইব্রাহিমপুর, ঢাকা ক্যাট. ঢাকা

মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছেই। রাস্তায় বের হলেই নানা জিজ্ঞাসাবাদে মুখে পড়েছে। কেউ প্রয়োজনে বের হচ্ছে, কেউ বের হচ্ছে দৃশ্যপট দেখতে। তবে নিম্ন আয়ের লোকেরা বের হচ্ছেন তাদের কাজ-কর্ম করতে হবে সেজন্য। রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও খেটেখাওয়া দিনমজুররা কাজ ছাড়া কীভাবে চলবেন—এটাও প্রশ্ন।

রাসেল আহমেদ

মুগদা, ঢাকা

গ্রামে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা সংক্রমণ। দেশের ৮০ ভাগ মানুষ গ্রামেই বসবাস করেন। অনেকের ঘরে সর্দি কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত রোগী রয়েছে। কিন্তু ডাক্তার দেখাতে বেশির ভাগ লোকের অনীহা রয়েছে। কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও গ্রামে এ ভাইরাসের সংক্রমণের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। তাই আমরা মনে করি, এই লকডাউনের বিষয়ে সবার সচেতনতা বৃদ্ধি করা একান্ত জরুরি।

মো. খায়রুল ইসলাম ফুল

আরাপপুর, ঝিনাইদহ