সিট না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন অনেক রোগী

পাবনা জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করোনা ও করোনার উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। অনেক রোগী হাসপাতালে সিট না পেয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। সেখানে ভাড়া করা সিলিন্ডার দিয়ে রোগীকে অক্সিজেন সরবরাহ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে করোনা রোগীদের সেবা বাড়াতে অন্যান্য সব বিভাগ বন্ধ করে এটিকে করোনা হাসপাতাল হিসেবে চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মনিসার চৌধুরী বৃহস্পতিবার ইত্তেফাককে বলেন, বিপুল সংখ্যক করোনা রোগীর চিকিত্সা দিতে করোনা ইউনিটের শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সব বিভাগ বন্ধ করে করোনা রোগীদের চিকিত্সায় ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সিভিল সার্জন বলেন, ইতিমধ্যে মেডিসিন বিভাগ ছোট করে ১০০ শয্যার করোনা ইউনিট চালু করা হচ্ছে। এক সপ্তাহের মধ্যে আরো কয়েকটি বিভাগ বন্ধ করে শয্যা বাড়ানো হবে। অবস্থা এরকম চলতে থাকলে হাসপাতালের সব বিভাগ বন্ধ করে শুধু ইমার্জেন্সি চালু রেখে পুরো হাসপাতাল করোনা চিকিত্সায় ব্যবহার করা হতে পারে। এজন্য অতিরিক্ত চিকিত্সক ও নার্স প্রয়োজন। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগকে এই প্রয়োজনের কথা জানানো হয়েছে। তবে কেবল চিকিত্সাসেবা দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না বলে জানান সিভিল সার্জন ডা. মনিসার চৌধুরী। তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অন্তত চার-পাঁচ জন রোগী করোনা উপসর্গ নিয়ে এসে হাসপাতালে ভর্তি হতে না পেরে বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন। তারা বাড়িতে অক্সিজেন ভাড়া করে চিকিত্সা নেওয়ার ব্যবস্থা করছেন। পাবনা শহর সংলগ্ন কিসমত প্রতাপপুর গ্রামের সোহরাব বিশ্বাস (৭০) শ্বাসকষ্ট ও করোনার অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিত্সা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালের করোনা বিভাগে কোনো সিট খালি না থাকায় তাকে বাড়ি ফিরে যেতে হয়। তার স্বজনেরা প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী না পেয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্সের সহকারীর কাছ থেকে অক্সিজেন সরবরাহ নেন। পাবনা মধ্যশহরের দিলালপুর মহল্লার মায়া বেগমকেও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে এসে ফিরে যেতে হয়। মায়া বেগমের ভাইয়ের ছেলে শিহান সিলিন্ডার ভাড়া করে তাকে বাড়িতে নিয়ে অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। কিছু দালাল সেখানে সিলিন্ডার ভাড়া দিচ্ছে উল্লেখ করে শিহান বললেন, দালালরা ঘণ্টায় ১ হাজার টাকা সিলিন্ডার ভাড়া নেয়।

এদিকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক ডা. সালেহ মোহাম্মদ আলী বললেন, পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ১০০ শয্যার করোনা ইউনিট চালু আছে। গত এক সপ্তাহে হাসপাতালের করোনা বিভাগে প্রায় ১৬১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০০ জন এখনো চিকিত্সাধীন। তিনি বলেন, সিট দিতে না পারলে করোনা বিভাগে কোনো রোগী ভর্তি করা হয় না। কারণ করোনা বা করোনা সন্দেহভাজন রোগীদের অন্য রোগীদের সঙ্গে রেখে চিকিত্সা দেওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া করোনা চিকিত্সার জন্য অক্সিজেন সরবরাহসহ অন্যান্য সুবিধা থাকা প্রয়োজন। তবে, করোনা হলেই সব রোগীর অক্সিজেন প্রয়োজন হবে তা নয় জানিয়ে ডা. সালেহ বলেন, আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই নিজেদের বাড়িতে অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে নিয়ে অথবা ভাড়া করে নিজেদের ইচ্ছেমতো অক্সিজেন নেওয়ার চেষ্টা করছে। বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অক্সিজেন কোনো ওষুধ নয় যে বাড়িতে থেকে ইচ্ছেমতো ব্যবহার করা যায়। চিকিত্সকের পরামর্শ না নিয়ে অক্সিজেনের মাত্রা না জেনে অক্সিজেন ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ। দালাল দ্বারা অক্সিজেন সরবরাহের বিষয় তার কিছু জানা আছে কি না, এ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনা চিকিত্সায় ১০০ শয্যার ইউনিট যথেষ্ট নয় বলেও জানান ডা. সালেহ।

পাবনা জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় পাবনায় এ পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ ২৯১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ঈশ্বরদীতেই ১৫৮ জন। সংক্রমণের হার ২০ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এছাড়া গত এক সপ্তাহে ১ হাজার ৩১৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।