পদ্ম ফুলে ভরে গেছে আলতাদীঘি

নওগাঁয় আলতাদীঘি ভরে গেছে পদ্ম ফুলে। দীঘির যতদূর চোখ যায় শুধু পদ্ম আর পদ্ম। এই আলতাদীঘির শেষ সীমান্তে অবস্থিত আন্তর্জাতিক সীমারেখা।

অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী জয়পুরহাট জেলা শহর থেকে ১৯ কিলোমিটার পশ্চিমে নির্জন বনের গভীরে জাতীয় উদ্যান আলতাদীঘি। উদ্যানের নির্জনতা, প্রচুর গাছপালা, সর্পিল পথ, গহিন বন—অজানা এক পরিবেশে গা ছমছম করে উঠবে। বিশেষ করে শালগাছকে আলিঙ্গন করে গড়ে ওঠা উইপোকার ঢিবিগুলো সবচেয়ে আকর্ষণীয়। মাঝেমধ্যে চেনা-অচেনা পাখির আচমকা ডাক, শালপাতার ফাঁকে ফাঁকে আলো-ছায়ার লুকোচুরি আর বাতাসের দোলায় মন মাতাল হওয়ার জোগাড় হবে। কিন্তু বর্তমানে করোনা ভাইরাসের থাবায় দীর্ঘদিন যাবত্ এই উদ্যানটি বন্ধ থাকায় সৌন্দর্য উপভোগ করার নেই কোনো পর্যটক। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৬৪.১২ হেক্টর বনভূমির মধ্যে দীঘিটির আয়তন ৪৩ একর। এটির দৈর্ঘ্য ১ হাজার ১০০ মিটার এবং প্রস্থ ৫০০ মিটার। পাড়গুলো উঁচু এবং দক্ষিণ পাড় শালবনে ঢাকা। পুরো জায়গায় শোভা পাচ্ছে রাশিরাশি পদ্মফুল। ধামইরহাট উপজেলায় মোট বনভূমির পরিমাণ ১৪০১.৬৯ একর। ভারতের কোলঘেঁষে আলতাদীঘি ও তত্সংলগ্ন বন এলাকার ২৬৪.১২ (৬৫২.৩৭ একর) হেক্টর জায়গাকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ২০১১ সালে এই দীঘিকে ‘আলতাদীঘি জাতীয় উদ্যান’ ঘোষণা করেছে। বিশাল দীঘি রামসাগরের দৈর্ঘ্য এটির চেয়ে ১৫০ মিটার বেশি হলেও চওড়ায় ১৫০ মিটারের কম। আর রামসাগর ১৭৫০ সালের দিকে খনন করা হয়। কিন্তু আলতাদীঘি পাল রাজ্য শাসনের সময় তৈরি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

দেখা গেছে, কোলাহল, বনভূমি সংকোচন ও বন্যপ্রাণী হত্যার ফলে উদ্যান এলাকার জীববৈচিত্র্য এখন অনেকটাই হুমকির মুখে। দিন যতই যাচ্ছে ততই বন এলাকায় ভবঘুরে ও ভূমিহীন মানুষদের জনবসতি গড়ে উঠছে। এতে উদ্যানের বন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য হারিয়ে যাচ্ছে। প্রাকৃতিকভাবে শালবন এখানকার প্রধান বৃক্ষ হলেও আজ তা ক্ষয়িষ্ণু প্রজাতির বৃক্ষ। সহযোগী প্রজাতি যেমন আমলকী, হরীতকী, বহেরা, শিমুল, কুম্ভি, তেন্ডু ইত্যাদি এখন আর নেই বললেই চলে। খাদ্য ও বাসস্থানের অভাবে এলাকাটি এখন বন্যপ্রাণীশূন্য। অথচ এক সময় এলাকাটি প্রচুর শিয়াল, বেজি, বনবিড়াল, খেঁকশিয়াল, গুইসাপ ও হরেক রকমের পাখির কলকালিতে পরিপূর্ণ ছিল।

বনবিট কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, জাতীয় উদ্যান ঘোষণার পর ধামইরহাট উপজেলা সদর থেকে শালবন বনাঞ্চল ও আলতাদীঘি পর্যন্ত পাকা রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে বাস, মাইক্রোবাস, ভটভটি ও রিকশা-ভ্যানযোগে ধামইরহাট থেকে আলতাদীঘি পর্যন্ত চার-পাঁচ কিলোমিটার পথ অনায়াসে পাড়ি জমানো সম্ভব। প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে ওঠা শালবাগানে বন বিভাগের উদ্যোগে ইতিমধ্যে ওষুধিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা, বাঁশ ও বেত লাগিয়ে বন্যপ্রাণী ও পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। এ বনাঞ্চলে অজগর, হুনুমান, বানর, গন্ধগোকুল, বেজি, সজারু, মেছোবাঘ, বনবিড়াল, শিয়ালসহ প্রায় ২০ প্রজাতির পাখি অবমুক্ত করা হয়েছে। এক দিকে পর্যটক ও দর্শকদের আনন্দ ও বিনোদন যেমন বেড়েছে, তেমনি এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য এ বনাঞ্চল যথেষ্ট অবদান রাখছে।