উপজেলার মহিষকান্দি গ্রামে সেপটিক ট্যাংকির ভেতরে সেন্টারিং খুলতে গিয়ে রাজমিস্ত্রি আসাদুল ও মজনু মিয়া নামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের দুজনকে জোর করে ট্যাংকির ভেতরে ঢুকিয়ে আসামিদের অবহেলায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ অভিযোগে গত বুধবার রাতে মজনু মিয়ার বাবা মো. শাহাদাত হোসেন মিয়া বাদী হয়ে ভবন মালিকের ভাইকে প্রধান আসামি করে কাঠালিয়া থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলার অপর দুই আসামি হচ্ছে, পলাশ খানের সহযোগী উপজেলার চেঁচরীরামপুর গ্রামের মো. ইলিয়াস মিয়া ও একই গ্রামের মো. রিপন মিয়া।
জানা যায়, উপজেলার পূর্ব মহিষকান্দি গ্রামের ফ্রান্স প্রবাসী মিরাজ খানের নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকি প্রায় এক মাস আগে তৈরি করা হয়। এতে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার গৌরীপুরের তেওয়ারীপুর গ্রামের মো. আসাদুল নামের এক রাজমিস্ত্রি কাজ করেন। গত মঙ্গলবার সকালে ঐ ট্যাংকির সেন্টারিং খোলার জন্য আসাদুল ও মজনু নামের দুজন ভেতরে নামার কয়েক মিনিটের ব্যবধানে অসুস্থ ও অচেতন হয়ে পড়ে। বাড়ির মালিকের ছোট ভাই পলাশ খান, ইলিয়াস ও রিপন মিলে পূর্ব মহিষকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন নির্মাণাধীন সাইক্লোন সেন্টারে মাটি ভরাটের কাজে নিয়োজিত মজনু মিয়া ও আসাদুলকে ডেকে এনে ট্যাংকিতে নামতে বাধ্য করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার বাদী শাহাদাত মিয়া জানান, মজনু প্রথমে নামতে রাজি না হওয়ায় কোনো রকম সাবধানতা ছাড়াই আসামি পলাশ খান ও অন্যরা জোরাজুরি করে ট্যাংকিতে নামিয়ে দেয়। ভেতরে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে মজনু অচেতন হয়ে যায়। খবর পেয়ে আমার মেয়ে সুমাইয়া আক্তার ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাইকে উদ্ধারের জন্য ট্যাংকিতে নামার চেষ্টা করলে উপস্থিত ব্যক্তিরা তাকে সরিয়ে দেয়। একপর্যায়ে সাক্ষী শুভর সহযোগিতায় মজনু ও আসাদুলকে ট্যাংকি থেকে টেনে তোলা হয়। রাজমিস্ত্রি আসাদুল ও মজনুকে অচেতন অবস্থায় ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
থানার অফিসার ইনচার্জ পুলক চন্দ্র রায় জানান, উপজেলার মহিষকান্দি গ্রামের সেপটিক ট্যাংকির সেন্টারিং খুলতে গিয়ে মিস্ত্রিসহ দুই ব্যক্তি মারা যায়। এদের মধ্যে মজনুকে অবহেলাজনিত কারণে সেপটিক ট্যাংকির মধ্যে ঢুকিয়ে মৃত্যুর অভিযোগ এনে তার বাবা বাড়ির মালিকের ছোট ভাই পলাশ খানসহ তিন জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।