ইংলিশদের মুখে হাসি ফুটেছে। ফুটবল প্রিয় ইংলিশরা উত্সব করছেন। ৫৫ বছরের অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়েছে। অবেশেষে ইউরোর ফাইনালের মঞ্চে ইংল্যান্ড। বুধবার রাতে লন্ডনে ওয়েম্বলির মাঠে ইউরোর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড ২-১ গোলে ডেনমার্ককে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে। রবিবার রাতে এই ওয়েম্বলির মাঠেই ফাইনালে ইংল্যান্ড-ইতালি মুখোমুখি হবে।
১৯৬৬ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড এর পর আর বড় কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠতে পারেনি। ১৯৯৬ ইউরোর সেমিফাইনাল হতেও বিদায় এবং ১৯৯০ ও ২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল হতে বিদায় নিয়েছিল ইংল্যান্ড। সেমিফাইনাল হতে বিদায় নিতে নিতে ইংলিশদের মনে ধারণা হয়ে গিয়েছিল আর কোনো দিন হয়তো পারবে না। ফাইনালে উঠে সেই ধারণাকে বদলে দিয়েছেন ইংলিশদের কোচ গ্যারেথ সাউথগেট।
ওয়েম্বলির মাঠে ১-১ গোলের খেলা ৯০ মিনিটে শেষ হয়। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের লড়াইয়ে ইংল্যান্ড ২-১ গোলে হারায় ডেনমার্ককে। ইংল্যান্ড খুব সহজেই ডেনমার্ককে হারিয়েছে, এমন কথা বলা যাবে না। রাত জেগে টিভির পর্দায় যারা ম্যাচটা দেখেছেন তাদের চোখ এড়ায়নি। ইংল্যান্ড ম্যাচ জিতেছে ভাগ্যের জোরে। পিছিয়ে থেকে গোলটা শোধ করেছেন আত্মঘাতী গোল পেয়ে। ম্যাচ জেতার গোলের সূত্রটা পেনাল্টি হতে। পেনাল্টির সিদ্ধান্ত ছিল বিতর্কিত। সবকিছুতেই ভাগ্যের প্রলেপ পেয়ে ইংল্যান্ড ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে।
ওয়েম্বলির মাঠে স্মাইকেল, মাহিল, ভেস্তারগার্ড, দামসগার্ড, ব্রেইথওয়েট, ক্রিশ্চেন, লারসেনদের নিয়ে ডেনমার্ক দুর্দান্ত শুরু করতে না পারলেও ইংল্যান্ডের সামনে দেওয়াল দিয়ে গুছিয়ে উঠার চেষ্টা করছিলেন। ইংল্যান্ড দুর্দান্ত স্পিডে শুরু করে। ওয়াকার, স্টোনস, ম্যাগুয়ের, কেভিন ফিলিপ, স্টারলিং, মাউন্ট, সাকা, হ্যারি কেইনদের দ্রুতগতির ফুটবলের কাছে তখনো দিশেহারা ডেনিশরা। এরই মধ্যে ৩০ মিনিটে সেটপিস পায় ডেনমার্ক। বক্সের অনেক দূরে বল বসান দামসগার্ড। ইংল্যান্ড শক্ত দেওয়াল দেয়। দামসগার্ড সবার মাথার উপর দিয়ে যে গোলটি করলেন তা ছিল এবারের ইউরোর সবচেয়ে সুন্দর গোল এবং ফ্রিকিক হতে সরাসরি প্রথম গোল ১-০। স্তব্ধ হয়ে ইংলিশ সমর্থকরা। এরপরই একই জায়গা হতে ফ্রিকিক করার সুযোগ পেয়েও ইংল্যান্ড গোল করতে পারেনি।
ইংল্যান্ডের ভাগ্য ভালো আত্মঘাতী গোলে ৩৯ মিনিটে গোল পেয়ে সমতা আনে। সাকার ক্রস স্টারলিং ধরার আগেই বল ফেরাতে গিয়ে ডেনমার্কের অধিনায়ক সিমন কেয়ারের পা স্পর্শ করে নিজেদের জালে ঢুকে গেলে উল্লাসে মেতে উঠেন ইংলিশরা ১-১।
অতিরিক্তি সময়ের ১০২ মিনিটে স্টারলিং বল নিয়ে ডেনিশদের বক্সে ঢোকার সময় দুই ফুটবলারের মাঝখানে পড়ে যান। ডাচ রেফারি ড্যানি ম্যাককেলি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। এই বাঁশির করুণ সুর ডেনিশদের রূপকথার গল্প লেখার কলম বন্ধ করে দিয়েছে। রেফারি ভিএআর পরিচালনাকারিদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। হ্যারি কেইন বল বসিয়ে পেনাল্টি শট করলেও সেঠি ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন ডেনিশ গোলকিপার স্মাইকেল। ফিরতি বলে কেইন গোল করেন ২-১। ভারতের সাবেক তারকা ফুটবলার বাইচুং ভুটিয়া টিভি টকশোতে বলেছেন, বিতর্কিত গোল। এটা মানা যায় না।’ টিভি রিপ্লেতে দেখাচ্ছিল স্টারলিংকে বাম দিকে থাকা ডেনিশ ফুটবলার ফাউল করেছেন। আর খেলার পর গোল প্রসঙ্গে স্টারলিং দেখালেন তার ডান দিকে আঘাত করা হয়েছে। পেনাল্টির সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।’