বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টেস্ট সিরিজ

৪ রানের জন্য হলো না বিশ্বরেকর্ড

৯ম উইকেটে সেরা পাঁচ জুটি

জোহানেসবার্গ থেকে হারারে, আকাশপথে প্রায় দুই ঘণ্টার ভ্রমণ, দূরত্ব ৫৯৩ মাইল। আফ্রিকা মহাদেশের দুই ক্রিকেট ভেন্যুই বিশ্ববিখ্যাত। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ নিউ ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামকে টপকে গতকাল বিশ্বরেকর্ডের ভেন্যু হতে পারত জিম্বাবুয়ের হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠ। কিন্তু ৯ম উইকেটে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ-তাসকিন আহমেদের রেকর্ড জুটি থামল বিশ্বরেকর্ড থেকে মাত্র ৪ রান দূরে থেকে। হারারের মাঠও অল্পের জন্য রেকর্ডের চূড়ায় যেতে পারলেন না।

 

গতকাল জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে মাত্র ৪ রানের জন্য বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করতে পারেনি মাহমুদউল্লাহ-তাসকিনের জুটি। মিলটন শুম্বার বলে স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে তাসকিন বোল্ড হলে থেমে যায় রেকর্ডযাত্রা। তবে টেস্ট ইতিহাসে ঠিকই নিজেদের নাম খোদাই করে নিয়েছেন তারা। সাদা পোশাকে ৯ম উইকেট জুটিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটির মালিক এখন মাহমুদউল্লাহ-তাসকিন।

২৩ বছর আগে জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকার মার্ক বাউচার-প্যাট সিমকক্সের গড়া বিশ্বরেকর্ড তাই অক্ষতই রইল। ১৯৯৮ সালে পাকস্তািনের বিরুদ্ধে ৯ম উইকেটে ১৯৫ রানের জুটি গড়েছিলেন দুই প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান। তবে লেজের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে ৯ম উইকেট জুটির রেকর্ডের সেরা পাঁচে বাংলাদেশের নাম উঠল দ্বিতীয়বার। এর আগে ২০১২ সালে খুলনায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে মাহমুদউল্লাহ-আবুল হাসান রাজু ১৮৪ রানের জুটি গড়েছিলেন। যা এখন তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে।

মাহমুদউল্লাহ-তাসকিনের ব্যাটের স্বপ্নযাত্রা শুরু হয়েছিল ম্যাচের প্রথম দিনে। দলীয় ২৭০ রানে লিটন দাস আউট হলে উইকেটে আসেন ১০ নম্বর ব্যাটসম্যান তাসকিন। দিন শেষে অপরাজিত ছিলেন ১৩ রানে। গতকাল সকালে ব্যাটিংয়ে নামার পরও বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যানকে টলাতে পারেনি জিম্বাবুয়ের বোলাররা। বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যানের মতোই ব্যাটিং করে গেছেন এ তরুণ। দুর্দান্ত সব শট খেলেছেন। বিশেষ করে কভার ড্রাইভ, অফ ড্রাইভ দেখে মনে হয়েছে যেন টপঅর্ডারের কেউ ব্যাট করছেন। স্বাগতিক পেসারদের বাউন্সার, সুইংয়ের বিপরীতে জমাট রক্ষণ নিয়ে টিকে ছিলেন। চোখে চোখ রেখে লড়েছেন। মুখের ওপর গিয়ে মুজারাবানির স্লেজিংয়ের পালটা জবাব দিয়েছেন।


ব্যক্তিগত ৩২ রানে এনগারাবার বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়েছিলেন তাসকিন। কিন্তু তা তালুবন্দি করতে পারেননি মিলটন শুম্বা। জীবন পেয়ে লাঞ্চের আগেই ১০১তম ওভারে ৬৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন তাসকিন। তার আগের ওভারে রয় কাইয়াকে পরপর দুটি চারে ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি তুলে নেন মাহমুদউল্লাহ।

গতকাল প্রথম সেশনে উইকেট দেননি তারা। লাঞ্চের পর এ জুটি ১৫০ পার হতেই দৃষ্টিসীমায় আসে রেকর্ডের রোমাঞ্চ। ১২২তম ওভারে শুম্বাকে মাহমুদউল্লাহ দুটি চার মারলে ৯ম উইকেটে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের জুটির মালিক হন তারা। বিশ্বরেকর্ড তখন নিঃশ্বাস দূরত্বে। কিন্তু সেই কীর্তি গড়া হয়নি তাসকিন ক্যারিয়ার সেরা ৭৫ রানের ইনিংস খেলে আউট হওয়ায়। খুব কাছে গিয়েও বিশ্বরেকর্ড গড়া হয়নি তাদের। তবে হারারে টেস্টে বাংলাদেশকে ঠিকই শক্ত অবস্থান নিয়ে গেছে এ জুটি।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি