মাধব রায়
কথাসাহিত্যিক,সহকারী অধ্যাপক (পদার্থবিজ্ঞান)
ব্লু বার্ড হাইস্কুল এন্ড কলেজ,সিলেট
আজ স্কুল ছুটির পর বিন্দু বর্ণালিকে নিয়ে এসেছে। এক সাথে পড়ে ওরা, দুজনে খুব ভাব। বর্ণালির মা এসেছিল ছুটির সময়। মা-কে বলে বিন্দুর সাথে চলে এসেছে। আজকে থাকবে। বিন্দু স্কুলে সবাইকে বলেছে বাবা মজার মজার গল্প বলে, পদার্থবিজ্ঞানের গল্প। পদার্থবিজ্ঞানের আবার মজার গল্প হয় নাকি! অনেকেই কৌতুহল নিয়ে জিজ্ঞাসা করেছে। কেউ কেউ অবিশ্বাসও করেছে। বিন্দু বলেছে, বাবা খুব সুন্দর করে বলে, যেন জীবন্ত। বর্ণালি বিশ্বাস করেছে। সে বিন্দুর কথা বিশ্বাস করে। তাই আজকে চলে এসেছে বিন্দুর সাথে। মা-কে বলতেই মা রাজি হয়ে আসতে দিয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার আছে, হোম ওয়ার্ক এর ঝামেলা নেই। সকালবেলা চলে গেলেই সারাদিনে শনিবারের হোমওয়ার্ক শেষ করা যাবে। বিন্দু বাবাকে ফোন দিলো-বাবা আজকে বর্ণালি এসেছে আমাদের বাসায়। তুমি খাবার দাবার ভালো দেখে নিয়ে এসো। সে রাতে থাকবে আর গল্প-কথায় পদার্থবিজ্ঞান শুনবে।
নীলকান্তবাবু বললেন কে এসেছে?
বর্ণালি, আমাদের ক্লাসের।
বাঃ, বেশ হয়েছে, তাহলে তো আজকে বর্ণালির গল্প বলতে হবে।
বিন্দু খুব খুশি। বাবা এলেই গল্পের আসর জমবে। আর রেখাদির গানও হবে। বিন্দু বর্ণালিকে বলেছে আমার রেখাদি খুব ভালো রবীন্দ্রসঙ্গীত গায়। অন্য গানও গায়, তবে তার গলায় রবীন্দ্রসঙ্গীতটাই ভালো মানায়।
স্কুল থেকে ফিরে ওয়াশ রুমে ঢুকল বিন্দু, বর্ণালিকেও ফ্রেশ হতে দিলো। এরপর খেয়েদেয়ে একটু রেস্ট, বাবার অপেক্ষা। বাবা আসতেই দৌড়ে এলো বিন্দু, কী এনেছে। নীলকান্তবাবু সুন্দর দুটো চকলেট এর প্যাকেট দিলেন, বর্ণালির জন্য একটা, বিন্দুর জন্য একটা। বিন্দু খুব খুশি। দৌড়ে গিয়েই বর্ণালিকে দিলো প্যাকেটটা। থ্যাংক ইউ বলল বর্ণালি। বর্ণালি প্যাকেটা পেয়েই খুলতে লাগল, চকলেট খাবে। বিন্দু বলল, না না, তোমার প্যাকেটা খুলো না। আজকে রাতে আমার প্যাকেটটা খুলে আমরা খাব সবাইকে নিয়ে। তোমারটা কাল বাসায় নিয়ে যেও।
বর্ণালি বলল, আচ্ছা।
সন্ধ্যার সময় নীলকান্তবাবুকে ঘিরে সবাই এসে বসল। কমলাও এলেন আজকে। নতুন একটা মেয়ে এসেছে, বিন্দুর বন্ধু। সবাই খুব উত্সাহী।
তোমার নামটা তো খুব সুন্দর মামণি? বললেন নীলকান্তবাবু। বর্ণালি, এর মানে জানো?
বর্ণালি মাথা ঝাঁকাল, জানে-বর্ণিল থেকে বর্ণালি। নানান রঙের সমাহার।
বাহ, ঠিক আছে। কিন্তু পদার্থবিদ্যায় আরও একটু বিশদ বর্ণনা প্রয়োজন। যেমন ধরো আলোর বর্ণালি, তাড়িেচৗম্বক বর্ণালি, বিভিন্ন ধরনের বর্ণালি।
তাড়িেচৗম্বক বর্ণালি কী?বলল বিন্দু।
তাড়িেচৗম্বক তরঙ্গে কম্পাংকের বা তরঙ্গদৈর্ঘ্যের নিম্নসীমা ও ঊর্ধ্বসীমার মধ্যে বিস্তৃত বিভিন্ন প্রকার বিকিরণ সীমাকে তাড়িেচৗম্বক বর্ণালি বলে।
বর্ণালি চুপ করে বসে আছে। কিছু বুঝতে পারছে কি-না বোঝা যাচ্ছে না।
কণিকা বলল-তাড়িেচৗম্বক তরঙ্গটা কী আগে সেটা বলো।
নীলকান্তবাবু বললেন-একদিন তো বলেছি, আবার বলি। তড়িেক্ষত্র ও চৌম্বকক্ষেত্রের কম্পনের ফলে সঞ্চালিত শক্তিকে তাড়িেচৗম্বক বিকিরণ বা তাড়িেচৗম্বক তরঙ্গ বলে।
অণু বলল-বর্ণালি মানে তো আমরা জানি আলোর বর্ণালি, বেনীআসহকলা।
তা-তো ঠিক আছে, নীলকান্তবাবু বললেন। মূলত আলোর বর্ণালি থেকেই অন্যান্যগুলো। আলোর বর্ণালি প্রথম প্রত্যক্ষ করেন বিজ্ঞানী নিউটন 1665 সালে। তিনি দেখেন সাদা আলো প্রিজমের মধ্যদিয়ে যাবার সময় ভূমির দিকে বেঁকে যায়। বেগুনি, নীল,
বিন্দু তাড়াতাড়ি বলে ফেলল-আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল, বেনীআসহকলা।
হ্যাঁ, তুমি বেনীআসহকলা কী জানো? বর্ণালিকে বললেন।
বর্ণালি বলল-জানি, আমাদের বইতে আছে।
ঠিক আছে। নিউটনই রংধনুর মতো এই পট্টির নাম দেন বর্ণালি (Spectram)। আবার অনেকদিন পর 1802 সালে বিজ্ঞানী ওলাস্টন (Wollaston) সূর্যের আলো থেকে প্রাপ্ত বর্ণালি পর্যবেক্ষণ করে এর মধ্যে অনেকগুলো কালো রেখা দেখতে পান।
বর্ণালি রেখার দিকে তাকাচ্ছে, রেখা মিটিমিটি হাসছে।
নীলকান্তবাবুও হাসলেন। বললেন-ওলাস্টন ভেবেছিলেন এই রেখাগুলো মূল বর্ণের ভেদ রেখা।
মূল বর্ণ কোনগুলো মামা? চন্দ্রা বলল।
মূল বর্ণ হচ্ছে লাল, সবুজ ও নীল। এরপর 1814 থেকে 1824 এই দশ বছর গবেষণা করে বিজ্ঞানী ফ্রনহফার কয়েকশ কালো রেখা দেখতে পান। তিনি বললেন-সৌরবর্ণালির এই কালো রেখা কোনও ভেদ রেখা নয়, বরং এগুলো শোষণ বর্ণালি রেখা। তিনি এগুলোর নাম দেন A, B, C, D, E, F, G. এবং K।
পরের অংশ আগামীকাল