দেশব্যাপী কিশোর অপরাধীদের উত্পাত ও উচ্ছৃঙ্খলতা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শুধুমাত্র রাজধানীতেই ভয়ংকর কিশোর গ্যাংয়ের সংখ্যা ৭৮, যেখানে ২ হাজারের বেশি সদস্য বিদ্যমান। বই, খাতা, কলম ছেড়ে হাতে তুলে নিচ্ছে মাদক ও নানা ধরনের দেশি-বিদেশি অস্ত্র। ছোট ছোট বিষয়কে কেন্দ্র করে মারামারি, চুরি, ছিনতাই থেকে শুরু করে ডাকাতি, মেয়েদের উত্ত্যক্ত, মাদকসেবন, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ ও খুনের সঙ্গে রয়েছে তাদের নিবিড় সম্পর্ক।
হতদরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়ে যারা নানাভাবে বঞ্চিত তাদের অনেকে উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও হতাশা থেকে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। বাড়ন্ত বয়সে সঙ্গদোষে অনেকেই বিপথগামী হয়ে অজান্তেই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে যাচ্ছে। এ বয়সে অধিক কৌতূহলের বশবর্তী হয়েও ডন হয়ে উঠছে কেউ কেউ। অপসংস্কৃতির চর্চাও এসব গ্যাং তৈরির কারণ হতে পারে। এছাড়াও পারিবারিক অশান্তি, একাকীত্ব এসবও গ্যাং হয়ে উঠার পিছনে কাজ করে।
কিশোর গ্যাংয়ের দমন কিংবা সমাধানে চাই সম্মিলিত একটি প্রচেষ্টা। পারিবারিকভাবে অভিভাবকদের শিশু-কিশোরদের নিয়মিত নজরদারির পাশাপাশি ধর্মীয় অনুশাসন ও নৈতিক শিক্ষায় সন্তানদের শিক্ষিত করতে হবে। ছাত্র সংগঠন বা নেতৃত্বের বিষয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকহীন শিশু-কিশোর ও পথশিশুদের প্রশাসনিক ও স্থানীয়ভাবে জনপ্রতিনিধিদের দেখাশোনা করা এবং যথার্থ শিক্ষার আওতায় আনতে হবে। আজকাল শহর, গ্রাম সবখানে শিশু-কিশোরদের খেলার মাঠ ও খোলা যায়গা সংকুচিত হচ্ছে। এর প্রভাবে শিশু-কিশোররা গ্যাং কালচারের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।তাই শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও অবসর সময় কাটানোর মতো খেলার মাঠ ও পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। সর্বোপরি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আজকের শিশু-কিশোররা আগামী দিনে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়